হাবাস পেশাদার কোচ। ভারতীয় ফুটবলে সফল কোচের তালিকায় উপরের দিকেই তাঁর নাম থাকবে। শিল্ড ফাইনালে হারের পর এদিন সোশ্যাল সাইটে অভিজ্ঞ কোচের বিবৃতি চোখে পড়ল। পরিকাঠামো, ক্রীড়াসূচি নিয়ে তোপ দেগেছেন তিনি। এমনকি, এমন টুর্নামেন্টকে সার্কাস বলতেও দ্বিধা করেননি। বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট, শিল্ড নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না তিনি। সামনে লম্বা আইএসএল। কোচ হিসাবে হাবাস সাফাই দিতেই পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত মত, শিল্ড ফাইনালে মোহন বাগান কার্যত হলুদ কার্ড দেখাল হাবাসের দলকে। সামনেই এসিএলটু’য়ের ম্যাচ। তারপর আইএসএল তো রয়েইছে। দ্রুত ভুলত্রুটি শোধরাতে না পারলে ভুগতে হবে ইস্ট বেঙ্গলকে। তাঁর উচিত অবিলম্বে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নজর দেওয়া উচিত তাঁর।
ভারতীয় ফুটবলে অনেক সমস্যা। ঘুনধরা সিস্টেম কাঠগড়ায় উঠবেই। কিন্তু হাবাস তো সব জেনেই কলকাতায় পা রেখেছেন। তাই হারের পর যুক্তি দেওয়া অর্থহীন। বরং শিল্ড ফাইনালে তাঁর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর! সেমি-ফাইনালের উইনিং স্কোয়াড অনেকটাই বদলে গেল ফাইনালে। এমনটা চট করে দেখা যায় না। নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিল ডেভিড। ফাইনালে অন্তত কিছুক্ষণ ওকে ম্যাচ টাইম দেওয়াই যেত। বিদেশি স্টপার জিভুলিচকে নিয়ে চিন্তা থাকছেই। কেভিন সিবলের বদলে তাঁকে নিয়েছেন হাবাস। ক্রোট স্টপার অত্যন্ত শ্লথ। পাশে আনোয়ার থাকলে ঘাটতি ধরা পড়বে না। অন্যথায় দুর্গ অটুট রাখা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জের। বড়ো ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও হতাশাজনক। প্রথম ২৫ মিনিটের পর দৌড় উধাও। মাঝমাঠে লম্বা লম্বা গ্যাপ তৈরি হল। রশিদ, রামিরেজ, জিকসনের নিউক্লিয়াস ভেঙে তছনচ। বিরতির পর ক্রমশ খেলা থেকে হারিয়ে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। হাবাসের কোচিংয়ে এতটা ছন্নছাড়া ফুটবল দেখতে মোটেও অভ্যস্ত নই। শিল্ডের নিয়ম অনুযায়ী ৬ বিদেশিকে খেলানোই যেত। পিছিয়ে পড়েও সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেননি স্প্যানিশ কোচ। তাঁর অন্য পরিকল্পনা থাকতেই পারে। কিন্তু জমাট ভাব না থাকলে এসিএল টু’তেও ভালো ফল করা মুশকিল। অভিজ্ঞ কোচ নিশ্চয়ই সেদিকে নজর দেবেন।



