Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইচ্ছা থাকলে কি না হয়! একই সঙ্গে স্নাতক পাশ মা-মেয়ের

তবে, দু’চোখে একরাশ স্বপ্ন আর মনের অদম্য জেদের কাছে বাধা মানেনি কোনও কিছুই

ইচ্ছা থাকলে কি না হয়!  একই সঙ্গে স্নাতক পাশ মা-মেয়ের
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: ছিল সমাজের চোখ রাঙানি। সংসারের হাজার কাজের ঝক্কি। তবে, দু’চোখে একরাশ স্বপ্ন আর মনের অদম্য জেদের কাছে বাধা মানেনি কোনও কিছুই। রক্ষণশীলতার গণ্ডি ভেঙেই ২০১৯ সালে মেয়ের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন মা। তারপর উচ্চ মাধ্যমিক, চলতি বছর মেয়ের সঙ্গেই পাশ করলেন স্নাতকও। 

Advertisement

১৯৯৯ সালে বলরামপুরের পতিডি দুলু মোহান্তির যখন বিয়ে হয়, তখন তিনি নবম শ্রেণিতে পাঠরতা। দু’চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল। মাধ্যমিক দেবেন, স্নাতক হবেন, চাকরি করবেন। কিন্তু, সংসারের যাঁতাকলে বিসর্জন দিতে হয় সবকিছুই। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। বিয়ের ২০ বছর পর সিদ্ধান্ত নেন, তিনি নতুন করে পড়াশোনা শুরু করবেন। মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবেন। মেয়ে ইন্দ্রাণী বলেন, পড়াশোনা করার মায়ের প্রবল ইচ্ছা ছিল। আমাকে যখন পড়াত, তখন সেই ইচ্ছার কথা বারংবার বলত। কিন্তু, বিয়ে, সন্তান, সংসার... এসবের মাঝে সে ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। আমি যখন দশম শ্রেণিতে উঠি, তখন একদিন মাকে বলি, তোমার পড়াশোনার যখন ইচ্ছা, তখন আমিই তোমার ইচ্ছা পূরণ করব। এরপর মাকে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিই। তারপর ২০২০ সালে একসঙ্গেই মাধ্যমিক দিই। ভালো নম্বর পেয়ে মা মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়। 
মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পরে দুলুদেবী মনে মনে ঠিক করেন, আরও পড়বেন। মেয়েকে নিয়ে এক সঙ্গেই এগিয়ে নিয়ে যাবেন নিজের লেখাপড়া। এরপর ২০২২ সালে একসঙ্গেই কলেজে ভর্তি হন মা-মেয়ে। মায়ের সঙ্গেই কলেজে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল মেয়ে ইন্দ্রাণীর। কিন্তু, বলরামপুর কলেজে এডুকেশন সাবজেক্ট না থাকায় ইন্দ্রাণী বরাবাজার কলেজে ভর্তি হন। তাঁর মা ভর্তি হন বলরামপুর কলেজে। এরইমধ্যে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দেওয়ার পর বিয়ে হয়ে যায় ইন্দ্রাণীর। দুলুদেবী বলেন, মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পড়াশোনায় অসুবিধা হতে থাকে। যেহেতু মাধ্যমিক থেকে দু’জনে একসঙ্গেই পড়াশোনা করে আসছি। তবে, সংসারের মতোই সবকিছু নিজে হাতেই সামলে নিয়েছিলাম। 
ইন্দ্রাণীও বলেন, মা আমার বান্ধবীর মতোই ছিল। কোথাও আটকে গেলে দু’জনে মিলে সেগুলি বুঝে নেওয়া থেকে শুরু করে প্রজেক্টের কাজ-সব একসঙ্গেই করতাম। তবে, এখানেই থেমে যাওয়া নয়, মা-মেয়ে পরেও লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন। মাস্টার্স করা। সেই মতো তাঁরা প্রস্তুতিও শুরু করেছেন।  
৪১ বছর বয়সে এসে স্নাতক করায় শুধু যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এমনটা নয়, ধেয়ে এসেছে বহু সমালোচনাও। দুলুদেবী বলেন, অনেকে ব্যঙ্গ করেছেন। বলেছেন, এই বয়সে কলেজে গিয়ে কী করবি? অনেকে আবার উত্সাহিতও করেছেন। স্বামী, শাশুড়ি প্রাণভরে সমর্থন করেছেন। বুধবার শাশুড়ি মাকে নিয়েই স্নাতকের রেজাল্ট আনতে গিয়েছিলাম। বৃদ্ধা শাশুড়ি পুতুলরানি বলেন, এত বছর পর বউ সংসারের কাজ করে পড়াশোনা করে পাশ করেছে, এটাই আমার গর্ব। পাড়া প্রতিবেশী কে কী বলল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
• একই সঙ্গে স্নাতক মা ও মেয়ে। নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ