ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বিধায়ক কৌশিক রায়কে প্রার্থী করলে এবার ময়নাগুড়িতে ডুবতে হতে পারে দলকে। গেরুয়া শিবিরের প্রাথমিক সমীক্ষায় এমনই আভাস মেলায় বিপাকে দলীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে বর্তমান বিধায়কের পরিবর্তে ময়নাগুড়িতে কাকে প্রার্থী করা যেতে পারে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে চর্চা তুঙ্গে বলে সূত্রের খবর। যদিও এব্যাপারে দলের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। তবে ঠারেঠোরে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের অনেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, এবার ময়নাগুড়িতে বর্তমান বিধায়কের ভাগ্যে শিকে না ছেঁড়ার সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ, দলের টিকিট পাওয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন তিনি।
দলের অন্দরে তাঁকে ঘিরে শুরু হওয়া চর্চা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বুধবার ময়নাগুড়ির বিধায়কের জবাব, আমার কাছে কোনো খবর নেই। এনিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে বিধায়ক হিসেবে কৌশিকের পারফরম্যান্সে যে পদ্ম পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতাদের একাংশ খুশি নন, তারও ইঙ্গিত স্পষ্ট। ময়নাগুড়ির বিধায়কের জনসংযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সহ সভাপতি চঞ্চল সরকারের জবাব, জনসংযোগের বিষয়টি ব্যক্তিগত। এনিয়ে বিধায়কই ভালো বলতে পারবেন। ময়নাগুড়িতে বিজেপির প্রার্থী বদলের জল্পনা প্রসঙ্গে চঞ্চলবাবুর মন্তব্য, দল যাঁকে ভালো মনে করবে, তাঁকেই প্রার্থী করবে। তবে এবার উত্তরবঙ্গে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় বেশকিছু নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী।
অভিযোগ, বিধায়ক তহবিলের টাকায় উন্নয়নের কাজ করা তো দূরের কথা, গত পাঁচ বছরে ময়নাগুড়ির মানুষ বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়কে দু-একবারের বেশি চোখে দেখেননি। ময়নাগুড়ি শহরে বিধায়কের কার্যালয় বলে কিছু নেই। বিজেপি পার্টি অফিসেও শেষ কবে বিধায়ককে দেখা গিয়েছে তা মনে করতে পারছেন না দলের কর্মীরা। ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিকবার ‘নিখোঁজ’ পোস্টার পড়েছে। আমজনতার পাশাপাশি এনিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির নিচুতলার কর্মীরাও ভোটের মুখে এখন নিজেদের বিধায়ককে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে একাধিক মিটিংয়ে ময়নাগুড়ির বিভিন্ন এলাকার বিজেপি কর্মীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ককে যদি আবার প্রার্থী করা হয়, সেক্ষেত্রে ময়নাগুড়িতে দলকে ডুবতে হবে। বুথ ও মণ্ডল স্তর থেকে পাওয়া এই রিপোর্ট গেরুয়া শিবিরের জেলা এমনকী রাজ্য কমিটির কাছেও পৌঁছে গিয়েছে। তারই ভিত্তিতে ময়নাগুড়িতে পদ্ম পার্টির প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা ঘিরে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে।ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, দলের সাংসদ, বিধায়করা জেলায় বা নিজেদের এলাকায় থাকলে পার্টি অফিসে বসা কিংবা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করা বাধ্যতামূলক। ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক গত পাঁচ বছরে পার্টি অফিসে ক’দিন এসেছেন, হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। এনিয়ে কৌশিকের সাফাই, আমাদের পার্টি এখন বুথমুখী। ফলে বুথে যাচ্ছি। তাঁর নামের সঙ্গে ‘নিখোঁজ’ বিধায়কের তকমা লেগে যাওয়া নিয়ে কৌশিকের মন্তব্য, এটা একটা রাজনৈতিক শব্দ। তবে ভোটের মুখে এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না।