নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অতি বৃষ্টিতে বিভিন্ন জেলার নিচু জমিগুলির ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় কীটপতঙ্গের উৎপাত বাড়ায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে, অতি বৃষ্টির ফলে রুক্ষ জেলা পশ্চিম বর্ধমানে ধান উৎপাদন বেড়েছে। একদিকে যেমন ধান চাষের ‘এরিয়া’ বেড়েছে, তেমনি ফলন ভালো হয়েছে। যার জেরে পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, আমাদের জেলায় ধান কেনার টার্গেট প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ধান উৎপাদন ভালো হওয়ায় টার্গেট পূরণের বিষয়ে আশাবাদী। চাষিদের কাছে গিয়ে ধান সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে। ধান বিক্রির জন্য চাষিদের যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, তার উপর জোর দিতে বলা হচ্ছে। খোলা বাজারে অনেক কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই, চাষিরা সরকারিভাবে ধান বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করুন।
আটটি ব্লক ও দুই মেগা সিটি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। জেলায় পুরোপুরি কৃষিনির্ভর ব্লক নেই বললেই চলে। প্রধান কারণ, উঁচু মালভূমির নিম্নভাগের মাটির রুক্ষতা ও বৃষ্টিপাতের অভাব। এবার রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জেলায় ধান চাষ বেড়েছে। সেই পরিসংখ্যান পেতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলাকে ৭৪হাজার ২০০মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে রাজ্য সরকার। জেলার ন’টি স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র বা সিপিসিতে ধান কেনা হবে। এছাড়াও ২৮টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে, যারা মোবাইল সিপিসি করে গ্রামে ও পাড়ায় গিয়ে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করবে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এদের মধ্যে আটটি এসএইচসি, ১৪টি কো-অপারেটিভ ও ছ’টি এফপিও গ্রুপ। তারাই এলাকায় গিয়ে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের আশা, খোলা বাজারে এখন ধান গড়ে ১৮০০ টাকা প্রতি কুইন্টালে বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে পারলে চাষিরা কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৭০০টাকা বেশি দাম পাবেন। তাই এবার সরকারিভাবে ধান দেওয়ার তাগিদ বাড়বে।
অন্যান্য জেলার মতো এখানেও ফড়েরাজ রয়েছে। তারা ধানকাটার মেশিন নিয়ে চাষির মাঠে হাজির হচ্ছে। মাঠের ভেজা ধান কেটে তারা বস্তাবন্দি করে নগদ টাকা দিয়ে দিচ্ছে। এরফলে সরকারি ঘরে ধান আসছে না। অনেক সময় রাজ্য সরকারের দেওয়া লক্ষ্যপূরণও হচ্ছে না। তাই এবার চাষিদের গ্রামে, পাড়ায় গিয়ে ধান কেনার উপর জেরা দেওয়া হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে চারটি মোবাইল সিপিসি বাড়ানো হয়েছে। খোলা বাজারে ধানের দাম কুইন্টাল প্রতি গড়ে ১৮০০টাকা চলছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার চাষিদের ২৩৬৯টাকা প্রতি কুইন্টালে ধান কেনা শুরু করেছে। সিপিসিতে নিয়ে এলে অতিরিক্ত ২০টাকা দেওয়া হবে।
গত বছর ধান বিক্রি করতে গিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়ছিলেন। রাইস মিল মালিকদের ব্যাঙ্ক গ্যারেন্টি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ধান সংগ্রহ করছিলেন না। এদিনের বৈঠক থেকে জেলাশাসক রাইস মিল মালিকদের এবিষয়ে সতর্ক করেন।