


নিজস্ব প্রতিনিধি, গঙ্গাজলঘাটি: দলের প্রার্থী জিতলে তিন মাসের মধ্যে বড়জোড়া চৌমাথায় উড়ালপুল তৈরির কাজ শুরু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন গঙ্গাজলঘাটিতে দলের প্রার্থী গৌতম মিশ্রর সমর্থনে অভিষেক জনসভা করেন। প্রার্থীকে পাশে নিয়ে অভিষেক বলেন, গত পাঁচ বছর বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় অনেক কাজ করেছেন। দল অলোকদাকে আরও বড়ো জায়গায় নিয়ে যাবে। এবারের প্রার্থী গৌতম মিশ্রকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে জেতান। আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বড়জোড়ায় উড়ালপুল তৈরি করে দেব। দলের প্রার্থী জিতলে তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বড়জোড়ায় বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কে নিত্য যানজটে নাভিশ্বাস উঠছে বাসিন্দাদের। ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক, যাত্রীদের অবস্থাও তথৈবচ। দীর্ঘদিন ধরেই বড়জোড়াবাসী রাজ্য সড়কের উপর উড়ালপুল নির্মাণের দাবিতে সরব রয়েছেন। বড়জোড়ার বিদায়ী বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর আগে চিঠি লিখেছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব উড়ালপুল তৈরি করে সমস্যার সুরাহা করার আবেদন জানিয়েছিলেন। বড়জোড়াবাসীর সমস্যা সম্পর্কে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে অবগত রয়েছেন, তা এদিন তাঁর ভাষণেই স্পষ্ট হয়।
এব্যাপারে অলোকবাবু বলেন, বড়জোড়া চৌমাথায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। বড়জোড়া-দুর্লভপুর শিল্প করিডর ও বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক ধরে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। তার ফলে ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থল প্রায় কোনো সময়ই ফাঁকা থাকে না। যানজটের প্রভাব চৌমাথা সহ সহ গোটা বড়জোড়া বাজার এলাকায় পড়ে। রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থাকে। সমস্যা সমাধানে বড়জোড়ায় উড়ালপুল তৈরির আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম। এদিন দলের সেনাপতি এসে আশ্বাস দেওয়ায় আমরা আশাবাদী। আমাদের প্রার্থী এবার বড়জোড়ায় জিতবেন। উড়ালপুলও তৈরি হবে।
নিত্যযাত্রী বিমল কর্মকার, ধনঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, উড়ালপুল তৈরি হলে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাঁকুড়া থেকে দুর্গাপুর কম সময়ে যাতায়াত করা যাবে। তাতে সকলেরই উপকার হবে। অবিলম্বে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক জঙ্গলমহলের অন্যতম ‘লাইফ লাইন’ বলে পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা বাঁকুড়াকে পশ্চিম বর্ধমানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শিল্পশহর দুর্গাপুরের সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগ রক্ষা করে চলা ওই রাস্তা গত কয়েকবছরে অনেকটা সম্প্রসারিতও হয়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সেটি চার লেনের করা প্রয়োজন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে। ওই রাস্তাটি বড়জোড়া বাজারের উপর দিয়ে গিয়েছে। বড়জোড়া বাজার থেকেই আবার দুর্লভপুর শিল্প করিডর শুরু হয়েছে। ওই রাস্তার দু’পাশে একাধিক কলকারখানা ও কয়লাখনি রয়েছে। দুটি রাস্তাতেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। উড়ালপুলের পাশাপাশি ওই রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণ জরুরি বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।