Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরে ৪২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১২ লক্ষের নথি মাস্ট , এগারোটির মধ্যে একটি না দেখালে নাম বাদ

এসআইআর চলাকালীন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১২ লক্ষ ভোটারকে নথি দেখাতে হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না।

পূর্ব মেদিনীপুরে ৪২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১২ লক্ষের নথি মাস্ট , এগারোটির মধ্যে একটি না দেখালে নাম বাদ
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এসআইআর চলাকালীন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১২ লক্ষ ভোটারকে নথি দেখাতে হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। তাই ১২লক্ষ ভোটারকে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির যে কোনও একটি দেখাতে হবে। তা দেখাতে না পারলে নাম বাদ পড়তে পারে। ৯অক্টোবর কোলাঘাটে তিন জেলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা অফিসারদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকের পর এই মুহূর্তে এসআইআরের প্রাক-মুহূর্তের কাজকর্ম জোরকদমে চলছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ২০০২সালে এসআইআরে কাদের নাম ছিল তাঁদের আলাদা করা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এই মুহূর্তে প্রশাসন ব্যস্ত এসআইআরের প্রস্তুতিতে।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, আমাদের জেলায় ১২লক্ষ ভোটারের নাম ২০০২এসআইআরে নথিভুক্ত হয়েছে। সুতরাং তাঁদের নথি দেখানোর বিষয়টি থাকছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ভোটার ৪২লক্ষ ৬৮হাজার। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ২১লক্ষ ৮৬হাজার। মহিলা ভোটার ২০লক্ষ ৮১হাজার। জানা গিয়েছে, ২০০২সালে এসআইআরে ৩০লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। এসআইআর চলাকালীন তাঁদের কোনও নথি দেখানোর প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু, বাকি ১২লক্ষ ভোটারদের নথি দেখাতে হবে। মোট ভোটারের ২৯শতাংশের নাম ২০০২সালে এসআ‌ইআরের সময় ছিল না। সুতরাং, ওই ২৯শতাংশ ভোটার কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির যে কোনও একটি দেখাতে না পারলে তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিহার রাজ্যে এসআইআর চলাকালীন ১১টি নথির তালিকা উল্লেখ করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০২সালের পর ভোটার তালিকায় নাম ওঠা ভোটারদের যে কোনও একটি দাখিল করতে হয়েছিল। এরাজ্যেও ওই ১১টি নথি বিবেচ্য হবে বলে প্রশাসন মনে করছে। তার মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে হবে। সেইসব নথি হল- কেন্দ্র, রাজ্য কিংবা অধীনস্ত সংস্থার(পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং) পচিয়পত্র কিংবা পেনশন পেমেন্ট কপি, দ্বিতীয়ত, ১৯৮৭সালে ১জুলাইয়ের আগে কেন্দ্রীয় সরকার, পুরসভা কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস থেকে ইস্যু হওয়া পরিচয়পত্র, সার্টিফিকেট কিংবা কোনও নথি থাকতে হবে। তৃতীয়ত, জন্ম সার্টিফিকেট। চতুর্থত, পাসপোর্ট। পঞ্চমত, অনুমোদিত বোর্ড কিংবা ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ষষ্ঠত, স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রাজ্য সরকারের উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সার্টিফিকেট। সপ্তমত, বনাঞ্চল অধিকারের সার্টিফিকেট। অষ্টমত, রাজ্য সরকারের অফিস থেকে ওবিসি, এসসি কিংবা এসটি সার্টিফিকেট। নবমত, এনআরসি(ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সার্টিফিকেট) শংসাপত্র। দশমত, রাজ্য কিংবা পঞ্চায়েত, পুরসভার মাধ্যমে ফ্যামিলি রেজিস্ট্রার। একাদশতম, সরকার প্রদত্ত বাড়ি কিংবা জমি ইস্যু করার নথি।
২০০২ সালে শেষবার এসআইআর হয়েছিল। সেই এসআইআরে যাদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল তাঁদের কোনওরকম নথি দেখাতে হবে না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম ৭১শতাংশ ভোটার আছেন। কিন্তু, বাকি ২৯শতাংশ অর্থাৎ ১২লক্ষ ভোটারের নাম ২০০২সালের পর তালিকায় উঠেছে। ৮ অক্টোবর দিল্লি থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল কোলাঘাটে প্রস্তুতি নিয়ে মিটিং করে গিয়েছেন। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার নির্বাচনের কাজের সঙ্গে যুক্ত অফিসারদের পাশাপাশি বিএলওদের সঙ্গেও মিটিং হয়েছে। অনেক বিএলও এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ভয়ভীতির আশঙ্কার কথা কমিশনের কর্তাদের জানিয়েছেন। তাই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ