Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একশো দিনের কাজ থাকলে প্রাণ যেত না, দাবি পরিবারের

ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মুরারই থানার গোঁড়শা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর কাশিল্যা গ্রামের বছর বিয়াল্লিশের ওই শ্রমিকের নাম আপেল শেখ।

একশো দিনের কাজ থাকলে প্রাণ যেত না, দাবি পরিবারের
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মুরারই থানার গোঁড়শা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর কাশিল্যা গ্রামের বছর বিয়াল্লিশের ওই শ্রমিকের নাম আপেল শেখ। গত শুক্রবার দুপুরে বেঙ্গালুরুতে একটি নির্মীয়মাণ চারতলা বিল্ডিংয়ের লিফটে চড়ে নির্মাণ সামগ্রী তুলছিলেন। সেই সময় লিফট ছিঁড়ে নীচে পড়লে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে ওইদিনই স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। রবিবার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামে। উপার্জনশীল ব্যক্তির মৃত্যুতে অথই জলে পরিবারের সদস্যারা। মৃতের স্ত্রীর আক্ষেপ, এলাকায় ১০০ দিনের কাজ থাকলে স্বামীকে বাইরে যেতে হতো না। গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সকলের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দুঃস্থ পরিবার। এখানে নিত্যদিন কাজ না জোটায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে দেখে মাস দেড়েক আগে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে রাজমিস্ত্রির শ্রমিকের কাজে যান। গত শুক্রবার সেখানে নির্মীয়মাণ একটি চারতলা বিল্ডিংয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কাজ করছিলেন আপেল। লিফটে করে তিনি নীচ থেকে উপরে নির্মাণ সামগ্রী তুলছিলেন। সেই সময় আচমকা লিফট ছিঁড়ে নীচে পড়ে যায়। গুরুতর জখম হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর আসতেই কান্নার রোল পরিবারে। ঘনঘন মুর্চ্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী সেলিমা বিবি। তার মধ্যেই তিনি বলেন, প্রতিদিন স্বামী সকালে ও কাজ শেষে রাতে ফোন করে খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু, কে জানত ওইদিন সকালটাই তাঁর শেষ ফোন। মাস খানেক পরেই দুই ছেলেকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। তাঁর আক্ষেপ, এলাকায় ১০০ দিনের কাজ থাকলে স্বামীকে এভাবে বাইরে কাজে গিয়ে মরতে হতো না। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। গ্রামের বাসিন্দা তথা দলের গোঁড়শা অঞ্চলের কনভেনর মাফিক শেখ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি ১০০ দিনের কাজ চালু রাখত, তাহলে এই শ্রমিককে বাইরে যেতে হতো না। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি সরকার। এর আগেও ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে এই এলাকার আরও কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রের সরকার বাংলার স্বার্থে নয়, কীভাবে বাঙালিদের ভাতে মারা যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। একের পর এক মৃত্যু বিজেপি সরকারের পতন ডেকে আনবে। মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিপ্লব শর্মা বলেন, রাজ্য সরকারের তরফে মৃতের পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ সহ বিভিন্ন সুবিধা পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।
বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল বলেন, বিজেপি নয়, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী তৃণমূল সরকার। কারণ তারা কেন্দ্রের ১০০ দিনের কাজের টাকার হিসেব দিতে পারছে না। ওই টাকা তারা লুট করেছে, তাই ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। তৃণমূলের উচিত ওই টাকার হিসেব দেওয়া, যাতে ফের অর্থ বরাদ্দ হয়।
 পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে ভিড়। -নিজস্ব চিত্র (ইনসেটে) মৃত আপেল শেখ।
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ