নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে প্রায় ৬০ লক্ষ মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে একজনেরও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। তা হলে আগুন জ্বলবে! মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে এসআইআর নিয়ে একটি আলোচনা সভার পর এমন হুঁশিয়ারি দেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস নমঃশূদ্র ও উদ্বাস্তু সেলের রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত সরকার। তিনি এব্যাপারে প্রতিটি জেলায় মশাল মিছিল, পদযাত্রা, সভা করার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে, এদিন শহরে মিছিল করার কথা প্রচার করা হলেও তা হয়নি। এনিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই শোরগোল পড়েছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআরে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘোট পাকাতেই বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ। তাই মতুয়া, নমঃশূদ্র, উদ্বাস্তু ও সাবেক ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে রাস্তায় নেমেছে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস নমঃশূদ্র ও উদ্বাস্তু সেল। এদিন তারা শহরের একটি হলে এসআইআর নিয়ে আলোচনা সভা করেছে। তাতে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন বিভিন্ন উদ্বাস্তু কলোনি, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন।
সভার পর সেলের রাজ্য সভাপতি বলেন, কোচবিহার থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। তাদের মধ্যে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। একজনেরও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে অবরোধ, বিক্ষোভ হবে। রাস্তায় জ্বলবে আগুন। এসআইআর, সিএএ বিজেপির ষড়যন্ত্র। পদ্ম শিবিরের ফাঁদে যাতে কেউ পা না দেয় সেজন্য বাসিন্দাদের সচেতন করা হবে। সর্বত্র সভা, মিছিল হবে।
এদিনের সভায় তৃণমূলর দার্জিলিং জেলার চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিবরেওয়াল, দলের বিএলএ-১ পাপিয়া ঘোষ, শিলিগুড়ির ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দলের চেয়ারম্যান বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক রাজ্য রয়েছে। সেগুলির মধ্যে অসম, মণিপুর, ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশের সমস্যা বেশি। সেই রাজ্যগুলিতে এসআইআর হচ্ছে না। কিন্তু ভোটের মুখে বাংলায় এসআইআর করা হচ্ছে। এটা বিজেপির ঘোট ছাড়া কিছুই নয়।
এদিকে, এদিন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস নমঃশূদ্র ও উদ্বাস্তু সেল শহরের বাঘাযতীন পার্ক থেকে এসআইআর বিরোধী মিছিল করবে বলে প্রচার করা হয়েছিল। এজন্য বাজনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পার্কে সংগঠনের কিছু কর্মীও জমায়েত করেন। কিন্তু সেই মিছিল হয়নি। দলীয় সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট সংগঠন পরিচালনা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে। যার জেরে মিছিল হয়নি। যদিও সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দাবি, আলোচনা সভা হয়েছে। মিছিলের কর্মসূচি ছিল না।