সংবাদদাতা, বহরমপুর: একটি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ। সেখানে সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে ৬৪জন শিল্পীকে থানায় ডেকে সংবর্ধনা ও শংসাপত্র দিলেন তিনি। শিল্পীদের মধ্যে বিশেষ সংবর্ধনা পেলেন সঙ্গীতের আটটি ইনস্ট্রুমেন্টে পারদর্শী তথা বেতারশিল্পী বহরমপুরের বাসিন্দা রাজেন ভাস্কর। আইসি বলেন, শিল্পকলা সমাজকে আলোর পথ দেখায়। যত বেশি মানুষ সঙ্গীতে আকৃষ্ট হবেন, তত তাড়াতাড়ি সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, নাশকতা দূর হবে।
২২ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহে বহরমপুরের একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। পুলিসি দায়িত্ব সামলে সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গিয়ে প্রায় একঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন আইসি। সেখানে শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশন উদয়শঙ্করবাবুকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর তিনি খাগড়ায় কনক সঙ্গীত নিকেতনে গিয়ে ওই শিল্পীদের থানায় আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন। ২৭মার্চ বহরমপুর থানায় একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ৬৪জন শিল্পীর হাতে তিনি শংসাপত্র তুলে দেন।
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তথা সঙ্গীতশিক্ষক রাজেন ভাস্করের হাতে মানপত্র ও উপঢৌকন তুলে দেন আইসি। রাজেনবাবু বাউলশিল্পী অমর পাল, সঙ্গীত পরিচালক সুভাষ চৌধুরী, নাজমূল হক, মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহুবার সঙ্গত দিয়েছেন। তিনি মাউথ অর্গান, বাঁশি, মেলোডিকা, ইকোলো ফ্লুট সহ আটরকম বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী। রাজেনবাবু বলেন, থানার আইসি আমাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দেবেন-এটা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। উনি নিজে সঙ্গীতানুরাগী। তাই শিল্পীদের মর্যাদা বোঝেন। পুলিসের কাছ থেকে শংসাপত্র পেয়ে উচ্ছসিত সঙ্গীতশিল্পীরা। তাঁদের মধ্যে পুষ্পশ্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, এ এক অভিনব অভিজ্ঞতা। আইসি আমাদের সম্মান দেওয়ায় আমরা আপ্লুত হয়েছি। সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা আমরা পালন করব। সুস্থ সমাজ গঠনে অংশ নেব।