নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জাতীয় সড়কের ধারে তিন বিঘা জমিতে রমরমিয়ে চলত কাটিং কারবার। ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে জ্বালানি, পিচ, কয়লা ইত্যাদি বিভিন্ন সামগ্রীতে ভেজাল মেশানো হতো। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে আসা রিফাইন্ড ভোজ্য তেলের ট্যাঙ্কার লাইন দিয়ে নন্দকুমার থানার মাধবপুরে ওই অবৈধ কারখানায় ঢুকে যেত। সেখানে রিফাইন্ড তেল বের করে তার বদলে পাম তেল মিশিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং তেলেভাজার দোকানে সরবরাহ করা হতো। এই অবৈধ ব্যবসার হাত ধরে জাতীয় সড়কের ধারে বিপুল জমি কিনেছেন কাটিং জগতের ‘ডন’ মঙ্গল বাগ। এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ কারবারের মাধ্যমে টাকার কুমির হয়ে গিয়েছিল মঙ্গল। ছ’ মাস অন্তর গাড়ি বদল করা ছিল তার অভ্যাস। হলদিয়ায় তার তেলের ব্যবসাও রয়েছে। সোমবার রাতে নন্দকুমার থানার পুলিস ও ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট শাখা একযোগে মাধবের অবৈধ ডেরায় হানা দেয়। সে সময়ে দু’টো ট্যাঙ্কার, ১৯টি বিটুমিন ভর্তি ব্যারেল, পাঁচ ব্যারেল পাম তেল সহ আরও বহু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মনোজ যাদব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও অবৈধ কারবারের কর্ণধার মঙ্গল বাগ ধরা পড়েনি। তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ডিইবি। তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট গাড়িও সিজ করেছে পুলিস।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে নন্দকুমার অবৈধ কাটিং কারবারের স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত। কোলাঘাট-হলদিয়া জাতীয় সড়ক বরাবর ওই থানার অন্তর্গত খঞ্চি, কামারদা, হাঁসগেড়িয়া, বাখরাবাদ, নারকেলদা, মাধবপুর ও টালিভাটায় টিন ঘেরা জায়গায় চলে কাটিং কারবার। হলদিয়া থেকে আসা পিচ, কয়লা, ভোগ্যতেল ও জ্বালানি তেলের গাড়ি ওইসব জায়গায় ঢোকে। সেখানে বেশ খানিকটা আনলোডিং করার পর নানারকম কেমিক্যালস ও নিম্নমানের সামগ্রী মিশিয়ে ফের গাড়ি ও ট্যাঙ্কার গন্তব্যস্থলে রওনা দেয়। লক্ষ লক্ষ টাকার কারবার চলে।
জানা গিয়েছে, মাধবপুরের আরও এক অবৈধ কাটিং কারবারের কিংপিন জোড়া পেট্রল পাম্প, অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলার ও ট্যাঙ্কার বানিয়েছে। দিল্লি থেকে তার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোলাঘাট-হলদিয়া জাতীয় সড়কের ধারে ওই তেল কাটিং কারবারের মধ্য দিয়ে ব্যবসার হাতেখড়ি। তারপর রকেটের গতিতে উত্থান। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। তাকে দেখেই এই কারবারে আরও অনেকে আগ্রহী হয়। গোটা নন্দকুমার থানা এলাকায় ৪০টির বেশি অবৈধ কাটিং কারবার জাঁকিয়ে বসেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গল বাগ পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়ার নানা জায়গায় ভোজ্যতেল সাপ্লাই করত। রিফাইন্ড তেলের দাম বেশি। তুলনামূলক পাম তেলের দাম কম। তার ডেরায় রিফাইন্ড তেলের সঙ্গে পাম তেল মিশিয়ে দেওয়া হতো। আরও নানা কেমিক্যালস মিশিয়ে টিন ভর্তি করে তাতে সিল ও লেবেলে সাঁটিয়ে দেদার সাপ্লাই করা হতো। হোটেল, তেলেভাজা, ফাস্টফুডের দোকানে ওইসব তেল সরবরাহ করা হতো। ওই তেল স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। পুলিসের নাকের ডগায় এধরনের অবৈধ কারবার চলছে।
নন্দকুমার থানার ওসি অমিত দেব বলেন, মাধবপুরে একটি অবৈধ কাটিং কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে। বেশকিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারখানার মালিক মঙ্গল বাগের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।