পাটনা: দিল্লি থেকে পাটনা। গত বছর সপরিবারে চার্টার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন বিহার ক্যাডারের আইএএস অফিসার নীলেশ রামচন্দ্র দেওরে। আর তা নিয়েই সরগরম বিহারের রাজনীতি। আরজেডি সহ বিরোধীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে চার্টার্ড ফ্লাইটে যেতে পারেন? কে টাকা দিয়েছিলেন? একের পর প্রশ্নের মুখে মুহূর্তে ভোলবদল মোদি-নীতীশের জোট সরকারের। কোনো সদুত্তর নেই। অগত্যা জবাবদিহি এড়াতে চেনা ছকে জাতপাতের রাজনীতি শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি ও জেডিইউর নেতা-মন্ত্রীরা। আমজনতার আবেগ উসকে বিহারের মন্ত্রী অশোক চৌধুরীর বক্তব্য, দলিত বলে কি ওঁর বিমানে চড়ার কোনো অধিকার নেই! সরকারি কর্মীর চার্টার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণের বিষয়টিতে এভাবে ‘কাস্ট পলিটিক্স’ মিশিয়ে দেওয়ার কৌশলকে কেন্দ্র করেই এবার বিতর্ক চরমে।সোমবার বিহার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন আরজেডি বিধায়ক রাহুল শর্মা।
তিনি বলেন, ‘গত বছর জুন মাসে চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি থেকে পাটনায় এসেছিলেন আইএএস আধিকারিক। একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে এত বিলাসবহুল যাত্রা করতে পারেন? কে এই খরচ বহন করেছে? আদৌ কি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? অন্য কেউ খরচ বহন করলে, বিনিময়ে কী পেয়েছে? এই দুর্নীতির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত।’ গর্জে ওঠেন কংগ্রেস বিধায়করাও। তাঁদের বক্তব্য, জনগণের টাকা এভাবেই অপচয় করছে বর্তমান সরকার।তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে নীতীশ কুমারের সরকার। মন্ত্রী অশোক চৌধুরী বলেন, ‘এমনিতেই পাটনায় ফিরছিল বিমানটি। তাই আলাদা করে না এসে ওই বিমানে চলে আসেন আইএএস আধিকারিক।’ উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় বিরোধীরা। এমন সময় জাতপাতের রাজনীতিকে হাতিয়ার করে আসরে নামেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে কী এমন পাপ করা হয়েছে? দলিত বা পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষের কি বিমানে চড়ার কোনো অধিকার নেই?’ আসল উত্তর এড়িয়ে মন্ত্রীর এমন অদ্ভুত যুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীরা।