আমার সবথেকে বড় সাপোর্ট সিস্টেম মা। মায়ের থেকে পাওয়া মূল্যবোধের জেরেই জীবনের চলার পথ মসৃণ হয়েছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। মায়ের সঙ্গে আমার এতটাই মিল যে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি। আমাদের হুবহু একরকম দেখতে। আমি যখন একদম ছোট তখন থেকেই আমার মা জীবনবোধের পাঠ দিয়েছিল। জীবনে চলার পথে যে যে বাধা বা যে রাজনীতির সম্মুখীন হতে হয়, সেই সম্পর্কে খুব ছোট থেকেই আমাকে সতর্ক করেছিল মা। সিনেমা দেখতে নিয়ে গিয়েছে মা। আবার বইমেলায় গিয়ে দেখে পছন্দের বই বেছে কেনার সঙ্গীও মা। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বাস্তবে টিকে থাকার পাঠও দিয়েছে। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধান করতে হয় তাও শিখেছি মায়ের থেকেই।
ছোট থেকেই একটা স্বাধীন পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমি। মা মননে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা। আর সেই বীজ আমার মধ্যেও বপন করেছিল শৈশবেই। আমাকে ডানা মেলে খোলা আকাশে ওড়ার সুযোগ দিয়েছিল। এক্ষেত্রে আমার বাবার সমর্থনও জরুরি। কারণ বাবার সাহচর্যেই মা নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে পেরেছে। আমি কিন্তু মাকে এখনও ভীষণ ভয় পাই। ছোটবেলায় অত্যন্ত দুরন্ত ছিলাম। তাই মাকে একটু কঠোর হতেই হতো। সেই ভয়টা এখনও আছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু আমার মায়ের সঙ্গে এজন্মে আর বন্ধুত্বটা হবে না। মা আমার কাছে ‘মা’ হয়েই থাকবে। তবে বাবা আমার বন্ধু। কিন্তু মা হচ্ছে একেবারে ইস্পাতকঠিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার আর মায়ের বোঝাপড়ার সম্পর্ক সমানুপাতিক। আমরা এখন একে অপরকে ভীষণ ভালো বুঝতে পারি।
আমি ছোট থেকে প্রচণ্ড ডানপিটে সঙ্গে সাহসীও। এবং সেটা কোথাও কোথাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেত। তাই শাসন করা ছাড়া মায়ের কাছে কোনও বিকল্প ছিল না। এখন ভাবি মা ভাগ্যিস সেই সময় শাসন করেছিল। তাই আজ এই জীবন কাটাতে পারছি। মায়ের কথা বলতে গেলে যে প্রসঙ্গ আসবেই তা হল মায়ের হাতের রান্না। মা ভালো রান্না করলেও মায়ের কিন্তু রান্নার প্রতি সেরকম আগ্রহ ছিল না। কোভিডের সময় মায়ের রান্নার প্রতি এই আগ্রহ জন্মাল। সেটাও কিন্তু আমার কারণেই। আমি খেতে ভালোবাসি। তাই মা বিভিন্ন রকম রান্না ট্রাই করতে শুরু করল। এখন মা দারুণ রান্না করে। মায়ের হাতের শুক্তো থেকে মাছের ঝোল— সবটাই লা-জবাব।
এখন বুঝতে পারি, মায়ের শাসন হোক বা আদর— এই ভালোবাসার কোনও ভাগ হবে না। কোনও বিকল্পও হবে না। আমি অন্তত যতদিন থাকব, এই আদর, শাসন থেকে যাক...।