Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

মৎস্য ধরিব, খাইব সুখে

ছেলেবেলায় শীতকালে আমাদের কাছে তিনটে প্রধান আকর্ষণ ছিল। তা হল সার্কাস, মেলা আর চড়ুইভাতি।

মৎস্য ধরিব, খাইব সুখে
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: ছেলেবেলায় শীতকালে আমাদের কাছে তিনটে প্রধান আকর্ষণ ছিল। তা হল সার্কাস, মেলা আর চড়ুইভাতি। মেলা ছিল প্রধানত দু’ধরনের, গ্রামীণ গন্ধমাখা মেলা এবং কাছেপিঠে কোথাও কোথাও বইমেলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুর চরিত্র বদলেছে, আর স্বাদও বদলেছে। সরকারি নিয়মে পশুপাখির খেলা নিষিদ্ধ হওয়ার পর সার্কাস তার কৌলীন্য হারিয়েছে। আমবাগানের ছায়াতে বা ধুলোমাখা মাঠে পিঠে শীতের মিঠে রোদ্দুর লাগিয়ে কাঠের আঁচে সেইসব চড়ুইভাতির দিনও শেষ। এখন রিসর্টে ক্যাটারারের তত্ত্বাবধানে পিকনিকের বদলে রিফ্রেশমেন্টের আয়োজন হয়। গ্রামীণ মেলাগুলোর চরিত্রও বদলে গিয়েছে। মেটে হাঁড়ি, গ্রামীণ থালা-বাসনের বদলে বিক্রি হয় বহুজাতিক সংস্থার ফ্রাই প্যান। চপ-জিলিপির পরিবর্তে ব্র্যান্ডেড কোম্পানির পিৎজা। মফস্‌সলের অনেক বইমেলাই পরিণত হয়েছে গানমেলাতে। তবুও এখনও কিছু মেলা টিকে আছে তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে, তাদের ধুলো মাখা গন্ধ নিয়ে, তাদের অদ্ভুত চরিত্র নিয়ে।

Advertisement

মেলার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। সেই কবে ছেলেবেলায় বাবার হাত ধরে পায়ে হেঁটে রথের মেলায় গিয়েছিলাম। সেই শুরু তারপর কত ছোট বড় মেলায় গিয়েছি। কেঁদুলির জয়দেবের মেলা থেকে, শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা, গঙ্গাসাগর মেলাতে প্রবল শীতের রাতে খড়ের ছাউনিতে রাত্রি উদ্‌যাপন, ছটে গিয়েছি বিহারের শোনপুরের হরিহর ছত্রর বিখ্যাত পশুমেলাতে।
তবে কলকাতা থেকে প্রায় ঘরের কাছেই যে পাঁচশো বছরের এমন এক প্রাচীন অদ্ভুত মেলা আছে তা আমার জানা ছিল না। এ মেলার খোঁজ পেয়েছিলাম এক বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকে। তিনি ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মেলাতে বাদাম বিক্রি করেন। ‘অদ্ভুত’ শব্দটা ব্যবহার করলাম এই কারণে। এ মেলা হল মাছের মেলা। সম্ভবত বাংলায় টিকে থাকা একমাত্র মাছের মেলা। মাছই এ মেলার প্রধান আকর্ষণ। না, ঘর সাজানোর রঙিন মাছের মেলা নয়, মৎস্যপ্রেমী বাঙালির খাবার মাছের মেলা। হুগলি জেলার দেবানন্দপুরের কেষ্টপুর গ্রামের মাছের মেলা। দেবানন্দপুর নামটা অবশ্য বাঙালির কাছে পরিচিত অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হিসাবে। তবে এই মাছের মেলা তত পরিচিত নয়। শরৎচন্দ্রের জন্মভিটা থেকে ক্ষীণকায়া সরস্বতী নদীর পাড়ে এই মেলার মাঠের দূরত্বও বেশি নয়।
পয়লা মাঘ যখন ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে টোটোতে উঠে বসলাম, তখন বেলা দশটা। এই একটা নির্দিষ্ট দিনই এ মেলা বসে। স্টেশন চত্বর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের পথ ধরল আমার বাহন। তার সঙ্গে কথা হয়েছে মেলা ঘুরে শরৎচন্দ্রের বাসভবন সংগ্রহশালা দেখে তারপর ফিরব। টোটোর চালক পড়াশোনা জানা শিক্ষিত ছেলে। রাতে টিউশনও পড়ায়। সে বলল, ‘আগে এই শীতকালে কিছু মানুষ শুধু দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্রের জন্মভিটাই দেখতে আসতেন। এখন ইউটিউবারদের কল্যাণে কয়েক বছর ধরে এ মেলা বেশ খানিকটা পরিচিতি লাভ করেছে। আপনাদের মতো বহু মানুষও বাইরে থেকে এই মেলা দেখতে আসছেন।’
তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এ মেলার ইতিহাস সম্পর্কে তুমি কিছু জানো?’
সে বলল, ‘যতটুকু জানি এ মেলার বয়স পাঁচশো পনেরো বছরের কাছাকাছি। পাঁচশো বছর আগে নাকি স্থানীয় এক জমিদার তাঁর গরিব প্রজারা যাতে একদিন অন্তত মাছ খেতে পারে সে জন্য তাঁর জমিদারির খাল-বিল থেকে মাছ ধরে এনে প্রথম এ মেলার পত্তন করেন। তবে সে সময় বিক্রি নয়, গরিব মানুষদের মাছ বিলি করা হতো। সেই জমিদার আজ নেই, জমিদারি প্রথাও উঠে গিয়েছে বহুদিন। তবে মেলাটা রয়ে গিয়েছে। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা সমুদ্রের মাছ থেকে পুকুরের মাছ, রাঘব বোয়াল থেকে চুনোপুটি সবরকম মাছ বিক্রি করেন এই মেলায়। এমন অনেক মাছ আপনি এখানে পাবেন, যা আজকাল শহরের বাজারে বিক্রি হয় না। এ মেলায় একসময় পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজরাও মাছ কিনতে আসত। কেউ কেউ আবার এ কথাও বলেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বর্ধিষ্ণু শিষ্য রঘুনাথ দাস গোস্বামী নাকি এই মাছের মেলার প্রচলন করেন। যদিও তিনি নিজে বৈষ্ণব ছিলেন। যে জমিতে মেলা বসে সেটা নাকি তাদের উত্তর পুরুষদের।’
কথা বলতে বলতে যত এগতে লাগলাম তত পথচলতি মানুষের সংখ্যা বাড়তে লাগল। তাদের চেহারা ও পোশাক দেখে বোঝা যায় গ্রামীণ মানুষ তারা। পথের একপাশে বড় বড় গাছের বাগান। তার নীচেই জমা হচ্ছে নানা ধরনের যানবাহন।
টোটো থেকে নেমে রওনা হলাম মেলার মাঠের দিকে। পথ চিনতে কোনও অসুবিধা নেই। ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ যাচ্ছে সেদিকে। দেখলাম, কেউ কেউ মাছ কিনে ফিরছেন সেদিক থেকে। ভিড় ক্রমশ এত বাড়ছে যে, কোথাও কোথাও এগবার সময় খানিক ঠেলাঠেলি ধাক্কাধাক্কিও হচ্ছে। শীতের ধুলো উড়ছে মানুষের পায়ে পায়ে। মেলায় ঢোকার মুখে একপাশে বসেছে কাঠের নাগরদোলা। কয়েকটা সস্তার খেলনা, গৃহস্থলীর জিনিসপত্রের দোকান, জিলিপি-মণ্ডার দোকানও রয়েছে। বহুদিন পর এক ফেরিওলাকে তালপাতার সেপাই বিক্রি করতে দেখলাম। ঠিক যেন আগেকার গ্রামীণ মেলার চিত্র। সময় থমকে আছে এখানে।
ভিড় আর কোলাহল ঠেলে একসময় প্রবেশ করলাম মেলার মূল কেন্দ্রস্থলে। দড়ি দিয়ে টাঙানো প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নীচে বসে আছে মাছ বিক্রেতারা। কেউ কেউ আবার ফাঁকা জমিতেই প্লাস্টিক বিছিয়ে নিয়ে মাছ বিক্রি করতে বসে গিয়েছে। দেখতে পেলাম শুধু মাছ নয়, একপাশে গেঁড়ে-গুগলি-শামুখ, আর দেশি ছোট কাঁকড়াও বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা-ক্রেতা সবাই প্রায় স্থানীয় মানুষ। ঘুরতে শুরু করলাম মেলাতে। কত রকমের মাছ যে বিক্রি হচ্ছে তার হিসাব নেই। বিশাল বিশাল রুই, কাতলা, রাঘব বোয়াল থেকে শুরু করে, কত মাগুর-শিঙি। বড় মাছ যারা বিক্রি করছে তাদের সামনে বিশাল বিশাল সব আঁশ বঁটি। ধারালো বঁটিগুলো কেমন যেন ভয় ধরানো। বড় বড় মাছগুলো নিমেষেই দু’টুকরো হয়ে যাচ্ছে তাতে। একটা দোকানের সামনে বেশ ভিড় দেখলাম। কেউ কেউ মোবাইল ক্যামেরায় ছবিও তুলছে। কৌতূহলী হয়ে সেখানে গিয়ে দেখলাম বিশাল একটা বোয়াল মাছ রাখা সেখানে। সত্যি রাঘব বোয়াল। আকারে পাঁচ ফুট হবে। এত বড় বোয়াল মাছ সত্যিই আমি আগে চোখে দেখিনি। আট-দশ কেজির রুই-কাতলা তো হামেশাই চোখে পড়ছে। এক অংশে সামুদ্রিক মাছের দোকান। শঙ্কর মাছ থেকে পমফ্রেট, মাছের রাজা ইলিশও সেখানে আছে। তবে ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ স্থানীয় দেশি মাছের দিকে। দামদর করে যা বুঝলাম তাতে শহরের বাজারের চেয়ে মেলায় স্থানীয় মাছের দাম খানিকটা কম। তাই অনেকেই মাছ কিনছে। সরপুঁটি, খলসে ইত্যাদি এমন কিছু মাছ দেখলাম যা আজকাল বাজারে পাওয়া যায় না। বেশ কিছু মাছ আমার অচেনা। স্থানীয় মানুষদের কাছে তাদের নামগুলো জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। ভরকা, মলা, চকুয়া, কাকিনা, চেনা, শাল চোপড়া, বুড়াল অদ্ভুত সব নাম। সে সব ছোট-বড় মাছের নাম আমি আগে শুনিনি বা দেখিনি। হয়তো বা এসব মাছ এখন বাঙালির খাদ্য তালিকা থেকে অবলুপ্তির পথে। স্থানীয় গ্রাম্য মানুষরা আগ্রহ ভরে এ সব মাছও কিনছে।
মাঠের একপাশে গ্রামের মহিলারা জ্বলন্ত স্টোভ, উনুন নিয়ে বসে আছেন। কড়াইতে গরম তেল ফুটছে। মাছ কিনে এনে দিলে তারা মাছ ভাজা করে দিচ্ছে। বহু মানুষ মাছ ভাজাচ্ছে তাদের দিয়ে। টাটকা, দেশি ভাজা মাছের স্বাদই আলাদা। দেখে লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। কয়েকটা পার্শ্বে মাছ কিনে বেসন দিয়ে ভাজিয়ে খেতে শুরু করলাম। একটু এগিয়ে মেলার পিছনের অংশে পৌঁছলাম। একটা প্রাচীন বটগাছ আর বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে রাস্তা নেমে গিয়েছে নীচের দিকে। সরু খালের মতো একটা মজা নদী। তার ওপর বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো। সেই সাঁকো পেরিয়ে নদীর ওপারে যাচ্ছে অনেকে। একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম এই মজা খালটি হল সরস্বতী নদী। দেখে কে বলবে যে, একসময় এই সরস্বতী নদী বেয়েই বড় বড় পণ্যবাহী পালতোলা জাহাজ যাওয়া-আশা করত ত্রিবেণী সঙ্গমে। কত ইতিহাসের সাক্ষী এই সরস্বতী নদী। শত শত বছর ধরে তার যৌবন হারাতে হারাতে আজ মজা খালে রূপান্তরিত হয়েছে। হয়তো বা পঞ্চাশ বছর পর তার এইটুকু অস্তিত্বও থাকবে না।
সাঁকোর দু’পাশের ঢাল এত বেশি যে খানিক সাবধানে নামতে হয়। আমি নেমে পড়লাম। তারপর বাঁশ ধরে সাঁকো পেরিয়ে ওপাড়ে উঠলাম। জায়গাটার একপাশে হলুদ সর্ষে ফুলের খেত আর তার লাগোয়া বিশাল এক ছায়াময় আমবাগান। গাছের নীচে বসা কয়েকজন মানুষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই একটা পুরনো কথা কানে এল— ‘মৎস্য ধরিব খাইব সুখে।’ মানুষগুলোর হয়তো এর চাইতে বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই। শরৎবাবু তো তাঁর লেখায় এসব মানুষের কথাই লিখে গিয়েছেন। ঘুরতে ঘুরতে বাগানের গায়ে গিয়ে সর্ষে খেতের সামনে দাঁড়ালাম। একসময় খেয়াল হল কীভাবে যেন ঘুরতে ঘুরতে ইতিমধ্যে ঘণ্টা তিনেক সময় কেটে গিয়েছে। এবার ফিরতে হবে। বাগান ছেড়ে বেরিয়ে সাঁকো পেরিয়ে আবার মেলার মাঠে ফিরে এলাম। মাঠে ফেরার পথে খালি মানুষ আর মানুষ। দলে দলে লোক প্রবেশ করছে মেলাতে। কেউ মাছ কিনে ফিরছে। কাঁচা মাছের আঁশটে গন্ধ, ভাজা মাছের গন্ধ আর উড়তে থাকা ধুলোর গন্ধ মিলেমিশে এক অদ্ভুত গন্ধ এসে লাগছে নাকে। ভিড় ঠেলে এগতে এগতে কোনও কোনও সময় তাড়ির গন্ধও এসে লাগছে নাকে। গ্রামীণ জনজীবনে আশ্চর্য ভালোলাগা, ভালোবাসা, উন্মাদনা পাঁচশো বছরের প্রাচীন মেলাকে ঘিরে। যেন জীবনের জয়গান গাইছে সকলে মিলে। ভেপু বাজছে, ঘড়ঘড় শব্দে ঘুরছে নাগরদোলা। মাছের মেলা হলেও সত্যি এ এক মিলন মেলা।
টোটোতে উঠে শরৎচন্দ্রের জন্মভিটায় পৌঁছতে মাত্র মিনিট দশেকের মতো সময় লাগল। অনেক বছর আগে ছাত্র জীবনে একবার এসেছিলাম এখানে। সে প্রায় তিরিশ বছর আগে হবে। তবে জায়গাটা আগের মতোই আছে। খুব বেশি সংস্কার হয়েছে বলে মনে হল না। উন্মুক্ত প্রবেশ তোরণ। কোনও লোকজন নেই। একটা শেডের তলায় পাথরের মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শরৎবাবু। উঁচু ভিতের উপর দাঁড় করানো সার সার লাল ইটের ঘরগুলোর সামনে দিয়ে ঘুরতে শুরু করলাম। ঘরগুলোর দরজা-জানলা সব বন্ধ। তাই জানার তেমন উপায় নেই এ বাড়ির ঘরগুলো সম্বন্ধে। কোন ঘরে বা কোথায় জন্মেছিলেন তিনি? তাঁর কোনও ব্যবহার্য সামগ্রী রাখা আছে কি না এসব ঘরে।
বাংলা কথাসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত কিছু জিনিস অবশ্য দেখতে পেলাম রাস্তার বিপরীতে তার নামাঙ্কিত সংগ্রহশালাতে গিয়ে। বেশ কিছু মানুষের দেখাও পেলাম সেখানে। শহরের মানুষ। মাছের মেলা দেখে ফেরার পথে তাঁরা এই সংগ্রহশালা দেখতে এসেছেন। রয়েছে কিছু ছবি আর ব্যবহার্য জিনিস। এক স্থানে রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত আরামকেদারা। দেওয়ালের গায়ে সাঁটানো কাগজে লেখা আছে ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত আরামকেদারা। বসা নিষেধ।’ কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে এক কোট পরা ভদ্রলোককে দেখলাম সেই কেদারায় বসে মোবাইলে সেলফি তুলছেন। হঠাৎই চিনে ফেললাম তাকে। মাছের মেলায় এই ভদ্রলোকই অন্ত্যজ মানুষদের দেখে নাক সিঁটকে বলছিলেন ‘এ সব জায়গায় কোনও দিন ভদ্রলোকদের নিয়ে আসে?’
সেই সব অন্ত্যজ মানুষ, যাঁদের নিয়ে লিখেছিলেন কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ