রাহুল অধিকারী (ক্যাব চালক): মঙ্গলবার রাত তখন এই সাড়ে ন’টা হবে। অনলাইনে বুকিং এল। লোকেশন নাগেরবাজার। পৌঁছলাম। দু’জন দাঁড়িয়ে। একটা নীল রঙের বড় ব্যাগ সামনে রাখা। ডিকি খুললাম। দু’জনে টেনেটুনে ব্যাগটা তুললেন। মনে হল খুব ভারী।
রাহুল অধিকারী (ক্যাব চালক): মঙ্গলবার রাত তখন এই সাড়ে ন’টা হবে। অনলাইনে বুকিং এল। লোকেশন নাগেরবাজার। পৌঁছলাম। দু’জন দাঁড়িয়ে। একটা নীল রঙের বড় ব্যাগ সামনে রাখা। ডিকি খুললাম। দু’জনে টেনেটুনে ব্যাগটা তুললেন। মনে হল খুব ভারী।
রওনা দিলাম। তেমন কথা বলছিলেন না ওঁরা। যেতে যেতে হঠাৎ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের অন্ধকার একটা জায়গায় গাড়ি থামাতে বললেন। জায়গাটা চিনি। ‘খেপলির বিল’ বলে সবাই। অনলাইনে পেমেন্ট করলেন। আমি নামলাম। গাড়িতে বসেই গুজগুজ করছিলেন ওঁরা। দেরি হচ্ছে দেখে আমি জানলায় টোকা দিলাম। ওঁরা নেমে ভারী ব্যাগটা ডিকি থেকে বের করছিলেন। বেশ কষ্ট হচ্ছে বুঝলাম। এমনিই জিজ্ঞেস করি, কী আছে স্যার? হঠাৎ বলে, ভাড়া মিটিয়ে দিয়েছি তো। এবার যান। ওঁদের হাবভাবে হঠাৎ কেমন যেন বদল। আমার মাথায় আচমকা এল, কলকাতায় ব্যাগে দেহ লোপাটের খবরটা। অন্ধকার জায়গায় ভয় ধরে গেল। চেঁচিয়ে বলি, কি আছে ব্যাগে? ওরা বলে, আরও টাকা দিচ্ছি, নিয়ে চলে যা। তখনই বুঝি বড় বিপদ হয়ে গিয়েছে। বললাম, ব্যাগ না খুলে দেখালে পুলিসকে ফোন করব কিন্তু। তখনই কপাল জোরে পুলিসেরই একটা গাড়ি আসতে দেখি। আমি চিৎকার করি। একজন হঠাৎ ব্যাগ ছেড়ে রাস্তা টপকে দৌড় লাগায়। অন্যজনও পালানোর চেষ্টা করছিল। আমি তাঁকে জাপটে ধরি। পুলিস আসে। ব্যাগ খোলে। দেখে গা শিরশির করে উঠল। ব্যাগের মধ্যে সেলোটেপ দিয়ে জড়ানো মানুষের মৃতদেহ। এখনও আমার হাত-পা কাঁপছে।