নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার সকাল ১১টা। তমলুক পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলাররা একযোগে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পান। তাতে বলা হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। দলের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে বৈদ্যনাথ সিনহার নাম চূড়ান্ত করা হল। ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে সুফিয়া বেগমকে চূড়ান্ত করা হল। জনৈক আইপ্যাক কর্মীর নম্বর থেকেই ওই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। তারপর কাউন্সিলারদের একে একে ফোন করেও একই কথা জানানো হয়। তারপর থেকেই সরগরম গোটা শহর। সাধারণত, চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের প্যাডে বন্ধ খামে নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়। এটাই রীতি। তারপর কাউন্সিলাররা সেটা খুলে দেখে দলের গাইডলাইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ছ’ দিন আগে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দলের কাউন্সিলাররা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পেলেন। নেতার পরিবর্তে যোগাযোগ করলেন আইপ্যাক কর্মী। মেসেজ পাওয়ার পর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সৌমেন চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর মন্তব্য, ‘আরআইপি তাম্রলিপ্ত মিউনিসিপ্যালিটি’। তাঁর এই কটাক্ষ বিপক্ষ শিবিরের লোকজন নিমেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন।
গত ১৮ নভেম্বর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এক নির্দেশিকায় চঞ্চল খাঁড়াকে পুরসভার অস্থায়ী চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। পুর আইন অনুযায়ী, এভাবে দপ্তরের মাধ্যমে নিযুক্ত হয়ে এক মাস চেয়ারম্যান থাকা যায়। তারমধ্যেই বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের মিটিং ডেকে নির্বাচন করতে হয়। সেখান নির্বাচিত ব্যক্তিই পরবর্তী সময়ের জন্য চেয়ারম্যান হন। কিন্তু, চঞ্চলবাবু ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করেননি। তাই তাঁর পদে থাকা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। ২২ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত এক মাসের মধ্যে চেয়ারম্যান নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেইমতো ২১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে বোর্ড মিটিংয়ের চিঠিও ইস্যু হয়ে গিয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বৈদ্যনাথবাবু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে ফোন এসেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও এসেছে। তাতে আমার নাম চেয়ারম্যান হিসেবে জানানো হয়েছে। আর, ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে দল সুফিয়া বেগমের নাম ফাইনাল করেছে। দলের সব কাউন্সিলারের কাছে এই মেসেজ এসেছে।
পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায় রায় বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে আইপ্যাক কর্মী ফোন করে এবং হোয়াটসঅ্যাপ করে বৈদ্যনাথ সিনহা ও সুফিয়ার বেগমের নাম জানিয়ে দিয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলার সৌমেন চক্রবর্তী বলেন, আমাকেও মেসেজ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবাক করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। পুরসভার চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচনে সাধারণত এক-দু’ দিন আগে দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলারদের জানানোর কথা। কিন্তু, তার আগে শুক্রবার বেশকিছু কাউন্সিলারের ফোনে মেসেজ এসেছে বলে জেনেছি। গোটা বিষয়টি আমার কাছেও স্পষ্ট নয়। আমি আশা করি, এনিয়ে দল থেকে একটা বার্তা আসবেই। সেই অপেক্ষায় আছি।