Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বানভাসির কথা: ‘টেনে বাড়ি থেকে বের না করলে স্ত্রীকে হয়তো বাঁচাতেই পারতাম না’

‘বাড়ির মায়া ছেড়ে বের হতে চাইছিল না স্ত্রী। এদিকে ক্রমাগত জলঢাকা নদীর জল ঢুকছিল এলাকায়।

বানভাসির কথা: ‘টেনে বাড়ি থেকে বের না করলে স্ত্রীকে হয়তো বাঁচাতেই পারতাম না’
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ‘বাড়ির মায়া ছেড়ে বের হতে চাইছিল না স্ত্রী। এদিকে ক্রমাগত জলঢাকা নদীর জল ঢুকছিল এলাকায়। স্ত্রীকে কোনওমতে টেনে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসি। চোখের সামনে সমগ্র বাড়ি ভেঙে পড়ে। জমির দলিল পর্যন্ত ভেসে গিয়েছে। স্ত্রীর কান্না থামাতে পারছিলাম না। সেদিন যদি স্ত্রীকে টেনে বাড়ি থেকে বের না করতাম তাহলে হয়তো তাঁকে বাঁচাতেই পারতাম না।’ 

Advertisement

সোমবার জল ভরা চোখে এই কথাগুলি বললেন ময়নাগুড়ির চারেরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা যোগেন্দ্রনাথ রায়। তাঁর তিনটি ঘর পুরোপুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরে যে সমস্ত সামগ্রী ছিল, সমস্ত জলে ভেসে গিয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়িতেই ত্রিপল টাঙিয়ে স্ত্রী সহ তিনি থাকছেন। কবে আবার এই সংসার গুছিয়ে তুলতে পারবেন সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে তাঁদের। 
যোগেন্দ্রনাথ হাজিরা মজুরির কাজ করেন। স্ত্রীর নাম স্বর্ণবালা রায়। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। নিজের পরিশ্রমে তিনি তিনটি ঘর তৈরি করেছিলেন। যেগুলি একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। রান্না করার সামগ্রী পর্যন্ত নেই। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে সেটা খেয়েই 
চলছে দিন। 
তিনি বলেন, জলঢাকা নদীটাই মনে হয় ওইদিন গ্রামের ভিতরে চলে এসেছিল। সেই সময় আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। কিন্তু স্ত্রীকে ডাকলেও সে বের হতে চাচ্ছিল না। বাড়ির মায়াতে ছেড়ে যেতে চাইছিল না। কিন্তু বিপদ বুঝে আমি তাকে টেনে বের করে নিয়ে এসেছিলাম।  
তাঁর সংযোজন, রাস্তায় উঠতেই দেখি জলের স্রোতে আমার তিনটি ঘর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। ঘরের কোনও সামগ্রী বাঁচাতে পারিনি। সেই সময় জীবন নিয়ে টানাটানি অবস্থা। একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। কবে আবার সবকিছু স্বাভাবিক করতে পারব সেই চিন্তায় রাতে ঠিকভাবে ঘুম পর্যন্ত আসছে না আমাদের।  ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে বসে যোগেন্দ্রনাথ রায়। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ