Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘এক বার দেশ ছেড়েছি, এবার ঘরটাও গেল’

একবার দেশ ছাড়তে হয়েছিল। এবার হারালেন ঘরও। হাবড়া স্টেশনের পাশের রেলবস্তিতে মঙ্গলবার সকালে কান পাতলেই শোনা গিয়েছে সব হারানোর হাহাকার।

‘এক বার দেশ ছেড়েছি, এবার ঘরটাও গেল’
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একবার দেশ ছাড়তে হয়েছিল। এবার হারালেন ঘরও। হাবড়া স্টেশনের পাশের রেলবস্তিতে মঙ্গলবার সকালে কান পাতলেই শোনা গিয়েছে সব হারানোর হাহাকার। যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল সারি সারি টিনের ছাউনি, রান্নার ধোঁয়া আর মানুষের বসবাস, সেখানে এখন পড়ে রয়েছে ভাঙা টিন, বাঁশ, ইট, কাঠ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে গেরস্থালির চিহ্ন। সোমবার রাতে রেলের উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে স্টেশন সংলগ্ন একাধিক ঝুপড়ি। বহু বছর ধরে সেখানে বসবাস করা পরিবারগুলির এখন খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কেউ হিসাব কষছেন, কী কী বাঁচানো গেল! কেউ আবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই খুঁজছেন হারিয়ে যাওয়া জিনিস। ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন সুজিত হাওলাদার। চোখের সামনে ভেঙে দেওয়া ঘরের দিকে তাকিয়ে তাঁর গলায় শুধু হতাশা। বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে শেষ সম্বল নিয়ে চলে এসেছিলাম। তখন সব ছেড়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছিল। অনেক কষ্টে এখানে একটা ঘর বানিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর কোথাও যেতে হবে না। সোমবার রাতে সব চলে গেল।’ একই আক্ষেপ বাচ্চু হালদারের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘ঘরটা টিনের ছিল ঠিকই, কিন্তু ওটাই সব ছিল। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ স্টেশনের পাশের এই বস্তিতে অনেকেই দশকের পর দশক ধরে বাস করছেন। আজ সেই ঠাঁই ধ্বংসস্তূপ! মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ হওয়া এলাকায় দেখা গেল, এক বৃদ্ধা কিছু কাপড় গুছিয়ে রাখছেন। একটু দূরে কয়েকজন শিশু নিজেদের বইখাতা খুঁজে বেড়াচ্ছে। কেউ বাঁশ সরাচ্ছেন। কেউ আবার ব্যবহারযোগ্য টিন আলাদা করে রাখছেন। যেন ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করার চেষ্টা!

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ