অর্ক দে, কলকাতা: বাবুঘাট থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে স্থানচ্যুত করতে তোলপাড় অবস্থা। রীতিমতো হিমশিম দশা পুরসভার। ডাকা হল এনজিও, পুলিশ। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় মহিলাকে সরানো হয়নি। আজ, বুধবার সকালে তাঁকে বাবুঘাট থেকে পাঠানো হবে পাভলভ মানসিক হাসপাতালে। যোগা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। সে সফরের আগে শহরজুড়ে চলছে সাফাই অভিযান। সেই অভিযানে বেরিয়েই মহিলাকে আবিষ্কার করেন সরকারি আধিকারিকরা।
অভিযানের তদারকির দায়িত্ব ১০ জুনিয়র আইএএস আধিকারিককে দিয়েছে নবান্ন। তাঁদের বরোভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা বিভিন্ন পার্ক, সরকারি জায়গা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি জায়গায় যেখানে যোগা হবে বলে পরিকল্পনা হয়েছে সেসব জায়গা পরিদর্শন করছেন। কোথায় গাছ কাটতে হবে, ভবঘুরে সরাতে হবে, ফুটপাথ পরিষ্কার করতে হবে, কোন জায়গায় জল জমে আছে, ডেঙ্গুর লার্ভা ভাসছে ইত্যাদি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন। সবমিলিয়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে পরিদর্শন। আএএস আধিকারিকদের সঙ্গে পরিদর্শন দলে আছেন কলকাতা পুরসভার একাধিক বিভাগের আধিকারিকরাও।
মঙ্গলবার বিকালে বাবুঘাটে সাফাই অভিযানে গিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার দেখা পান আধিকারিকরা। একটি গাছের তলায় প্রায় সংসার পেতে বসে আছেন তিনি। মহিলা কিছুতেই নিজের জায়গা ছাড়তে রাজি হননি। বুঝিয়েসুজিয়ে কোনোভাবেই তাঁকে সরানো যায়নি। ফলে সে জায়গাটি পরিষ্কার করাও সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর বাবুঘাট অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আইএএস আধিকারিক সরাসরি যোগাযোগ করেন পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, সমস্যার কথা শুনে প্রথমে চমকে যান পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তারা। তারপর তাঁরা ফোন করেন একটি এনজিওকে। মহিলাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বরোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আমরা তুলে নিয়ে যেতে পারি না। তার জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল আছে। এনজিওকে জানাতে হয়। পুলিশকে বলতে হয়। আইনি বিষয়গুলি মানতে হয়। তারপর ভারসাম্যহীনকে মানসিক হাসপাতালে বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়। এই কাজ করতে করতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ফলে স্থানচ্যুত করার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। আজ নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। মহিলাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কাজ হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি কোন রাস্তায় জল জমে রয়েছে বা কোথায় ঝড়বৃষ্টিতে রাস্তায় গাছের ডাল পড়ে রয়েছে তার খোঁজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চূড়ান্ত সতর্ক প্রশাসন। কোথাও কোনো বিচ্যুতি যাতে না থাকে তার জন্য কড়া নজরদারি রেখেছেন আধিকারিকরা। আইএএস আধিকারিকরা শহরজুড়ে ছুটছেন। সঙ্গে ছুটছেন পুরকর্মীরাও। এমনকি রাত দেড়টার সময়ও নয়া ফরমান আসছে তাঁদের কাছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, আইএএস অফিসার পর্যন্ত জলের মধ্যে ডেঙ্গুর লার্ভা খুঁজেছেন। আমাদের কি অবস্থা তাহলে ভেবে দেখুন। গত কয়েকদিন ধরে যা চলছে তাতে আমরা, সরকারি অফিসারদেরই পাগল পাগল দশা।