তিনি ব্যস্ত। ধারাবাহিক থেকে সঞ্চালনা— একা হাতে নানা ভূমিকা সামলাচ্ছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। আকাশ আট চ্যানেলে ‘রাঁধুনি’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলানোর ফাঁকেই চলল আড্ডা। উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছে অনুষ্ঠানের অন্দরমহল। পুজোর এপিসোডের শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা। লালপাড় সাদা শাড়িতে সেজে শট দিলেন সুদীপ্তা। তারপর খোলসা করলেন, ‘রান্নার ব্যাপারে আমি খুব প্যাশনেট। অল্প তেলে রান্না করতে পছন্দ করি।’ আর পুজোর সময়? তখনও রান্নাবান্না চলে? সঙ্গে ডায়েট? হেসে নায়িকার জবাব, ‘একেবারেই নয়। কোনো ডায়েটের জালে নিজেকে আটকে রাখি না পুজোর সময়। মন দিয়ে খাওয়াদাওয়া করি। দুর্গাপুজোয় ভোগের খিচুড়ি, পায়েস, লুচি-আলুর দম হোক কিংবা রাস্তার ধারের দোকানের এগ রোলও চুটিয়ে উপভোগ করি।’ হাতে আর কয়েকদিন বাকি। তারপরই দুর্গাপুজো। শপিং কতদূর এগল সুদীপ্তার?
অভিনেত্রী জানালেন, ‘দুর্গাপুজোর থেকেও কালীপুজোর সময়ই বেশি শাড়ি কেনা হয়। কারণ আমার শ্বশুরবাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলে কালীপুজো।’ পুজোর সময় কীভাবে কাটান তিনি? তাঁর কথায়, ‘১৬-১৭ ঘন্টা টেলিভিশনের কাজের ব্যস্ততা আর বিয়ের পর দুই বাড়ির দায়িত্বভার বেড়ে যাওয়া, সবটা মিলিয়ে দুর্গাপুজোর সময় দু’দিন বাপের বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়টাই অন্যরকম। ২০২৩-এ বাবাকে হারানোর পর থেকে দুর্গাষ্টমির অঞ্জলি দিতে ইচ্ছা হয় না। আসলে বাবা প্রত্যেক বছর অঞ্জলি দিত, আমরা প্রত্যেকে একসঙ্গে অঞ্জলি দিতে যেতাম। পুজোর সময় বাবা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে এই সময় আরো বেশি করে আমরা মাকে একটু মাতিয়ে রাখার চেষ্টা করি। আমি তখন মায়ের সঙ্গে থাকি। আসলে বিয়ের পর মায়ের কাছে মেয়ের যাওয়া মানেই দুর্গাপুজো।’ ২০২৩-এর পর বদলে যাওয়া দুর্গাপুজোর কথা বলতে বলতেই শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের কোণে আসা জল মুছে নিয়ে নিজেকে সামলে নিলেন তিনি। আবারও সপ্রতিভমুখে পরের শটের জন্য নিজেকে তৈরি করলেন সুদীপ্তা।