ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবির মূল চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা বেদাঙ্গ রায়নাকে। ইতিমধ্যে এই ছবিতে তাঁর কন্ঠে গাওয়া গান ‘মস্কারা’ জনপ্রিয় হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তরুণ অভিনেতা।
ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবির মূল চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা বেদাঙ্গ রায়নাকে। ইতিমধ্যে এই ছবিতে তাঁর কন্ঠে গাওয়া গান ‘মস্কারা’ জনপ্রিয় হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তরুণ অভিনেতা।
বক্স অফিসের চাপ অনুভব করছেন?
বক্স অফিসের চাপ তো থাকেই। তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে দর্শকের প্রতিক্রিয়া। মানুষ যদি সত্যিই ছবিটিকে ভালোবাসেন এবং গল্পের আবেগের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেন, তাহলে ছবি তার প্রাপ্য সম্মান একদিন না একদিন পাবেই।
দেশভাগের আগের এক কিশোরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
দেশভাগ বা ঔপনিবেশিক সময়ের কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার নেই। তাই বই পড়ে, গবেষণা করে, নানা আলোচনা করে এবং সেই সময়ের পরিবেশকে কল্পনায় নির্মাণ করেই চরিত্রটির কাছে পৌঁছেছি। আমি কাউকে অনুকরণ করিনি।
তরুণ নাসিরুদ্দিন শাহর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে টেনশন হয়েছিল?
চাপ ছিল, এটা অস্বীকার করব না। কারণ আমি নাসিরুদ্দিন শাহর বড় ভক্ত। অভিনয়ের প্রস্তুতির সময় ওঁর মাস্টারক্লাস ও বিভিন্ন ভিডিও নিয়মিত দেখতাম। ওঁর মতো অভিজ্ঞ এবং কিংবদন্তি অভিনেতার সামনে দাঁড়িয়ে আমি একই সঙ্গে ভীষণ নার্ভাস এবং উত্তেজিত ছিলাম।
নাসিরুদ্দিন শাহ আপনার কাজের প্রশংসা করেছেন?
ছবির ডাবিংয়ের সময় নাসিরুদ্দিন শাহ আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি ছবিতে অসাধারণ কাজ করেছ।’ মজার বিষয়, আমি ওঁর তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছি, অথচ আমরা কেউই আগে একে অপরের অংশ দেখিনি।
ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে কখনও ‘আউটসাইডার’ বলে মনে হয়েছে?
আমি বরং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কারণ অনেকেই সবকিছু ছেড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মুম্বইয়ে এসে সংগ্রাম করেন। তাঁদের বাবা-মায়ের সমর্থন থাকে না, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও থাকে না। তাঁরা বছরের পর বছর অডিশন দিতে থাকেন, কোনো একটা সুযোগ মিলবে এই আশায়। আর যখন আমি অডিশন দিতাম, তখন আমার লক্ষ্য ছিল না যে, আমাকে অভিনেতা হতেই হবে। আমি মুম্বইতেই বড় হয়েছি। আমার কাছে পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের একটা নিরাপত্তা ছিল। অভিনয় না হলেও অন্য পথ খোলা ছিল। তাই ‘দ্য আর্চিস’-এর মতো একটি বড় সুযোগ পাওয়া আমার কাছে আশীর্বাদের মতো, আর সেটাই আমার জীবন বদলে দিয়েছে।
আপনি জেন-জি প্রজন্ম। আপনার কাছে প্রেমের সংজ্ঞা কী?
প্রেমের অনুভূতিটা আসলে সর্বজনীন। যুগ বদলায়, বদলায় শুধু প্রকাশের ভাষা এবং মাধ্যম। একসময় মানুষ প্রেমপত্র লিখত, এখন হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে। তবে সত্যিকারের ভালোবাসার আবেগ, গভীরতা আজও ঠিক ততটাই অমলিন, যতটা শত শত বছর আগেও ছিল।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই