শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ‘আমি এক সন্তানহারা মা, শহিদ জননী। উপ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আপনাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছি।’—সোমবার উপ নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড় কাণ্ডপসরা, বাসুলিচক, শ্রীপুর ও দুর্গাপুরে এভাবেই নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। নন্দীগ্রাম থেকে তাঁকে দেড় লক্ষ মার্জিনে জয়ী করারও আবেদন জানান। সেইসঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর সংযোজন, ‘আমার ছেলে বায়ুসেনায় চাকরি করত। শুভেন্দুবাবুর আপ্ত সহায়ক হিসেবে যুক্ত হয়েছিল। তাকে খুন করা হয়েছে। কারা খুন করেছে, সেটা আপানারা বুঝতেই পারছেন। হলদিয়ায় শুভেন্দুবাবু তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আপনারা এই ভোটে আমাকে নির্বাচিত করে শুভেন্দুবাবুর মুখ উজ্জ্বল করে তুলুন। তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি যাতে তাঁর কাছ থেকে নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য আরও স্কিম ছিনিয়ে আনতে পারি, সেই সুযোগ দিন।’
সোমবার সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে পুরোদমে প্রচার শুরু করেন হাসিরানিদেবী। স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি ধনঞ্জয় ঘড়া সহ অন্যান্য নেতারা দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন। সকাল ৯টা নাগাদ বাড়কাণ্ডপসরা গ্রামে অন্নপূর্ণা উপভোক্তাদের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁরা ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে হাসিরানিদেবীকে স্বাগত জানান। এলাকার দোকানদারদের সঙ্গেও জনসংযোগ সারেন বিজেপি প্রার্থী। তারপর তিনি বাসুলিচক গ্রামে যান। সেখানে ৩৬ নম্বর বাসুলিচক বুথে শীতলা মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে জনসংযোগ সারেন। এরপর শ্রীপুর গ্রাম এবং দুর্গাপুর গ্রামে কর্মিসভায় যোগ দেন।
দুর্গাপুরে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আসন। উপ নির্বাচনে আমাকে জয়ী করে তাঁর মুখকে উজ্জ্বল করুন। ফলতায় পুষ্পা ঝুকেগা নেহি বলার পরও সেখানে আমাদের জয়ের মার্জিন ছিল ১ লক্ষ ন’হাজার। নন্দীগ্রামে সেই মার্জিনকে দেড় লক্ষে নিয়ে যেতে হবে।’ কর্মীদের সতর্ক করে বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘আপনারা আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। এমনটা ভাববেন না যে, বিরোধীরা নেই। কীসের চিন্তা? আসল কথা হল, বিরোধীরা থাক বা না থাকা নন্দীগ্রামে জয়ের মার্জিনকে বাড়াতেই হবে।’ তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী বিজেপি প্রার্থী।
তা হলেও নন্দীগ্রামের উপ নির্বাচনকে হালকাভাবে দেখতে নারাজ বঙ্গ-বিজেপি। রাজ্য নেতৃত্বের তরফে ইতিমধ্যেই উপ নির্বাচনে ১০ সদস্যের কমিটি গড়া হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে ইন-চার্জ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, দুই মন্ত্রী অরূপ দাস ও শান্তনু প্রামাণিক এবং নীলাঞ্জন অধিকারীকে কো ইন-চার্জ করা হয়েছে। নির্বাচনি কমিটিতে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে কনভেনার এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচ বিধায়ককে কো-কনভেনার হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা থেকে ওই বিধানসভার জন্য স্টিয়ারিং কমিটি গড়া হয়েছে। ৩০ জন জেলা নেতাকে ১৭টি অঞ্চলের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।