নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার হল শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে আশিঘর ফাঁড়ি সংলগ্ন বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের বারোঘাটি এলাকায়। স্ত্রীর দেহ মিলেছে ওই এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া সাহু নদীতে। তাঁর গলায় গভীর ক্ষত ছিল। তার ঠিক পাশেই জঙ্গলের একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলেছে স্বামীর দেহ। তাঁর গলাতেও কাটা দাগ মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম অনিমা মণ্ডল (৪০) ও তপন মণ্ডল (৫০)। তাঁদের বাড়ি স্থানীয় ভোলানাথ পাড়ায়। আশিঘরে একটি স্পঞ্জ তৈরির কারখানায় কাজ করতেন অনিমাদেবী। স্বামী সেই অর্থে কোথাও স্থায়ী চাকরি না করলেও ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের দুই ছেলেও রাজমিস্ত্রী ও কলের মিস্ত্রীর কাজ করেন।
জানা গিয়েছে,অন্যান্য দিনের মতো কারখানায় কাজ শেষ করার পর স্বামী স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। শনিবারও সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ স্ত্রীকে নিতে এসেছিলেন স্বামী। কারখানার সিসি ক্যামেরায় সেই ছবি দেখা গিয়েছে। তবে অন্যান্য দিন কারখানার বাইরে চা খেতে দাঁড়ালেও তাঁরা তা করেননি। এরপর দু’জনেই নিখোঁজ হয়ে যান। যে সময়ে বাবা-মা বাড়ি ফেরেন, সেই সময় পার হয়ে যাওয়ায় বড় ছেলে তাঁর মামা ভবেন বর্মনকে ফোন করেন। তিনি এসে খোঁজ শুরু করলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। রাত ১০টা নাগাদ আশিঘর ফাঁড়িতে গিয়ে ঘটনার কথা জানান মণ্ডল দম্পতির ছেলে ও মামা। পুলিশ খোঁজ শুরু করেও রাতে পায়নি। রবিবার সকালে ফের দম্পতির খোঁজ শুরু হয়। সেই সময় সাহু নদীতে মহিলার দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে দেহ শনাক্ত করার জন্য বাড়ির লোকেদের খবর দেয়। ভবেনবাবু ও তাঁদের প্রতিবেশীরা এসে দেহ শনাক্ত করার পাশাপাশি জঙ্গলের ভিতরে আর একটি দেহ দেখতে পান। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। প্রতিবেশীদের দাবি, দম্পতির মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। তাঁদের বাড়িতে সকলেই উপার্জনও করেন। তাহলে কেন দু’জনে আত্মহত্যা করবেন? তাঁদের আরও দাবি, দু’জনের গলায় যেভাবে কাটা রয়েছে তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। কিন্তু কে কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে সে বিষয়ে পরিবারের সকলে অন্ধকারে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য সামনে আনুক। তদন্তকারীদের একাংশ যদিও দাবি করেছেন,স্ত্রীকে খুন করে স্বামী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। স্বামী ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, আমরা খুনের ঘটনার মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। স্বামী-স্ত্রীর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক খতিয়ে দেখেই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। মৃত মহিলার দাদা ভবেনবাবু বলেন, আমরা কোনদিনও বোনের পরিবারে কোনও অশান্তির কথা শুনতে পাইনি। পরিবারের সকলেই এখন অর্থ উপার্জন করে। এরপরেও কেন তাঁরা আত্মহত্যা করবেন? এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে।