নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সম্পর্কের টানাপোড়নের কারণেই নাকাশিপাড়ায় স্বামীর হাতে খুন হতে হয় বধূকে। তদন্তে এমনটাই উঠে আসছে পুলিসের হাতে। জানা গিয়েছে, ধৃত হায়দার শেখের বয়স ৩৫। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী মহিলা দফাদারের বয়স ৩৮। বয়স বেশি হওয়ায় ক্রমেই জৌলুস হারাচ্ছিলেন মহিলা। তা নিয়ে দু’জনের সম্পর্কে খানিক ফাটল ধরে। এরই ফাঁকে হায়দারের জীবনে আবারও ফিরে আসেন তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী। প্রাক্তনের সঙ্গে হায়দারের ঘনিষ্ঠতা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। বিগত কয়েক মাস ধরে তা নিয়েই সংসারে অশান্তি চলছিল হায়দার ও মহিলাদেবীর মধ্যে। তা নিয়ে বচসার জেরে স্বামীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মহিলা। হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। তবে, এই প্রথম হায়দার পুলিসের হাতে ধরা পড়েনি। এর আগেও একাধিক মামলায় সে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছে। প্রতিবার জামিনে ফিরেও বদলায়নি তার চালচলন। এই নিয়ে মোট সাতটি মামলায় আসামি হল হায়দার শেখ। নাকাশিপাড়ার ধনঞ্জয়পুর, বিলকুমারি এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবেই পরিচিত সে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা রয়েছে। স্ত্রী খুনের ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ যাচাই করা হচ্ছে। সাংসারিক সমস্যার কারণেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধনঞ্জয়পুরের ধাপাড়িয়ার বাসিন্দা হায়দারের আগে বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ দশ বছর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করেছিল সে। তাদের সন্তানও রয়েছে। বছর পাঁচেক আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২০২০ সালে প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে নির্যাতন এবং খুনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছিল হায়দারের বিরুদ্ধে। তাতে সে জেলও খাটে। হায়দারের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবার পর বর্তমানে আলাদা থাকে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী। এরই মধ্যে চার বছর আগে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী মহিলা দফাদারকে বিয়ে করে। মহিলাদেবী ইটভাটায় কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি বিলকুমারি পঞ্চায়েতের। ইটভাটাতেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ নাকাশিপাড়া থানার ধনঞ্জয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দফাদার পাড়ায় এক ব্যক্তিকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় জড়িত ছিল হায়দার। এছাড়াও লাল চাঁদ শেখ, বিল্লাল শেখ সহ ন’জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছিল। মাস চারেক আগে জামিনে ছাড়া পায় সে। যদিও সে আর ধনঞ্জয়পুরে ফিরে যায়নি। বিলকুমারিতে নিজের শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিল।
পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, জেল থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। নিয়মিত ফোনেও কথা হতো তাদের মধ্যে। সংসারে সতীনের আগমন ভালোভাবে নেননি মহিলাদেবী। তা নিয়েই নিত্য অশান্তি লেগেই ছিল। ২১ জুলাই রাতে সেই নিয়েই ঝামেলা হয় হায়দার ও মহিলার মধ্যে। স্ত্রীর উপর চড়াও হলে সে পালিয়ে গিয়ে পাশেই দাদার বাড়িতে ওঠে। সেখানেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে হায়দার।