সংবাদদাতা, কাঁথি: স্ত্রীর পরকীয়ায় কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল স্বামী। পথ থেকে কাঁটাকে উপড়ে ফেলতে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী। মন্দারমণি কোস্টাল থানার তালগাছাড়ি-২ পঞ্চায়েতের দুবলাবাড়ি গ্রাম এই অভিযোগ ঘিরে উত্তাল। রহস্য মৃত্যু হয়েছে দুবলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা অলোক দলাইয়ের (৪৫)। সোমবার সকালে বাড়ির বিছানায় অলোকের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকে অলোকের স্ত্রী দেবী দলাই পলাতক ছিল। বিকেলে তাকে আটক করেন গ্রামবাসীরাই। এরপর দেবীকে মারধর করে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দেবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
ধৃত গৃহবধূর সঙ্গে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। সীতারাম বারিক নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার রামনগর থানা এলাকার বাসিন্দা। সে বর্তমানে পলাতক। পরকীয়ার কাঁটা সরাতে দু’জনে মিলে অলোককে খুন করেছে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার দেবীকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তদন্তের স্বার্থে দেবীর তিনদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুলিস দেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। ওসি অর্কদীপ হালদার বলেন, সব অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে।
জানা গিয়েছে, অলোকের বাড়ি আদতে চাঁদপুরে হলেও অনেকদিন ধরে দুবলাবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন। তিনি দিনমজুর ছিলেন। মাছ ধরার মরশুমে ট্রলারেও যেতেন। অলোক ও দেবীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রবিবার রাতে অলোকের ছেলেমেয়েরা খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়ে। দেবীর বাবাও মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। এদিকে সোমবার সকালে অলোককে বাড়ির বিছানায় যখন দেখতে পান প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজনরা, ততক্ষণে দেবী পালিয়ে গিয়েছে। তাঁরা অলোককে বড়রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে সকাল থেকে পলাতক থাকার পর বিকেলে বালিসাই থেকে টোটোয় দুবলাবাড়ি ফিরছিল দেবী। সেই সময়ে গ্রামবাসীরা তাকে দেখতে পেয়ে তাড়া করলে সে খড়ির জঙ্গলে লুকিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা জঙ্গলে আগুন ধরাতে উদ্যত হলে বেরিয়ে আসে দেবী। তখন প্রচুর মহিলা-পুরুষ জড়ো হন। দেবীকে মারধরও করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। দেবীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর অলোকের দেহ চাঁদপুর গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে খুনের অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীরা দেহটি আটকে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। যদিও দেবীকে পুলিসের আটক করেছে জানার পর গ্রামবাসীরা শান্ত হন। অলোকের দেহটি দীঘার বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করা হয়। এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবী সহ ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অলোকের পিসতুতো ভাই পঙ্কজ মালি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তিন ছেলেমেয়ে থাকার পরও দেবী পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রায়শই রাতের অন্ধকারে একাধিক ব্যক্তি আসত বাড়িতে। এনিয়ে অলোকের সঙ্গে দেবীর ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। রবিবার অলোক বাড়িতে ছিলেন না। রাতে তাঁর বাড়িতে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার আসে এবং ছাদে মদের আসর বসায়। অলোক বাড়ি ফিরে এসব কাণ্ড দেখে প্রতিবাদ করেন। তখনই তাঁকে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে খুন করা হয় বলে গ্রামবাসীদের সন্দেহ।
পঙ্কজ বলেন, খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখতে পাই, ছাদে মদের বোতল, বাটিতে মাংস, গামছা, লাঠি এবং ব্লাউজের টুকরো পড়ে রয়েছে। দাদাকে ছাদ থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রমাণ করার জন্য বিছানায় শুয়ে দেওয়া হয়। সিঁড়িতে রক্তের দাগও লেগেছিল। সবকিছুই পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। • নিজস্ব চিত্র