অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কথায় বলে, ভালোবাসার কোনও সীমানা হয় না। কিন্তু সেটা কেবলই কথার কথা! বাস্তব বড়ই নির্মম। সাক্ষী থাকল নদীয়া জেলার সীমান্ত। দুই বাংলার প্রেম-ভালোবাসার গল্প আটকে গেল কাঁটাতারে।
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কথায় বলে, ভালোবাসার কোনও সীমানা হয় না। কিন্তু সেটা কেবলই কথার কথা! বাস্তব বড়ই নির্মম। সাক্ষী থাকল নদীয়া জেলার সীমান্ত। দুই বাংলার প্রেম-ভালোবাসার গল্প আটকে গেল কাঁটাতারে।
আট বছর আগে ওপার বাংলার জাহির শেখ (নাম পরিবর্তিত) নামে এক যুবককে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন রহিমা বিবি (নাম পরিবর্তিত)। উত্তর দিনাজপুরের বছর চব্বিশের তরুণী সংসার পেতেছিলেন হরিয়ানার পানিপথে। ছোট্ট সংসার। দুই সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই কাটছিল। কিন্তু মুহূর্তেই সব ওলটপালট। নাগরিকত্ব আর সীমানার আইনি জটিলতায় সংসার ভেঙে খানখান। দিনকয়েক আগে নদীয়া জেলার মুরুটিয়া থানা এলাকা দিয়ে ‘পুশব্যাক’-এর জেরে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হয়েছে স্বামীকে। রহিমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হতে যাচ্ছিল। কিন্তু, তাঁর একাধিক তথ্যপ্রমাণ দেখে বোঝা যায়, রহিমা ভারতীয় নাগরিক। ফলে, তাঁকে আর বাংলাদেশে পাঠানো হয়নি। চোখের জলে স্বামীকে বিদায় জানিয়ে রহিমা থেকে যান এপাড়ে। দীর্ঘ আট বছরের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ।
বুধবার সকালের হাওড়া স্টেশন। দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে উত্তর দিনাজপুরের পথে রওনা দিলেন রহিমা। সঙ্গে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী। কাঁটাতারে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই স্বামীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আতান্তরে পড়েছেন ওই বধূ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের গোতি এলাকায় ওই মহিলার বাপের বাড়ি। রহিমা হিন্দিতে ভালো ভাবে কথা বলতে পারেন না। বাংলা ও সূর্যাপুরী ভাষাতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। হরিয়ানার পানিপথে প্রায় দশ বছর ধরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে কাজ করার সময়ই বাংলাদেশি যুবক জাহিরের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাত-আট বছর আগে সেখানেই তাঁরা বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ছ’বছর। অপরজনের দেড় বছর।
সম্প্রতি বাংলাদেশি সন্দেহে হরিয়ানা পুলিস বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের তুলে আনে। সেই তালিকায় নদীয়া জেলারও বহু পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। সেখানে তাঁদের পরিচয় পত্র ভেরিফিকেশন করা হয়। তাতে বেশ কিছু বাংলাদেশি ধরা পড়ে। যাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনও নথি ছিল না, তাঁদের একজন রহিমার স্বামী জাহির শেখ। জানা গিয়েছে, এরকম প্রায় ২১ জনকে পাওয়া যায়, যাঁরা বাংলাদেশের। তাঁদের সকলকেই গত সোমবার রাতে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করতে নদীয়া জেলার মুরুটিয়া থানা এলাকার সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। সেখান দিয়েই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। স্বামীর সঙ্গে কাঁটাতার অতিক্রম করার ঠিক আগের মুহূর্তে জানা যায়,রহিমা ভারতের বাসিন্দা। তাঁর নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। ভারতীয় নাগরিকত্বের উপযুক্ত নথি থাকায় বধূরবাপের বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের হাওড়া স্টেশনে আসতে বলা হয়। সেইমতো বুধবার সকালে সেখানে রহিমা এবং তাঁর দুই সন্তানকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিন, ওই বধূর আত্মীয় আনোয়ার বলেন, সাত-আট বছর আগে হরিয়ানাতেই ওঁরা বিয়ে করেছিলেন। আমাদের বাড়ির মেয়েকেও বাংলাদেশি বলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তারপর ওরা খতিয়ে দেখে আমাদের মেয়ে ভারতীয়। তখন ওকে ভারতে থেকে যাওয়ার কথা বলা হয়। হরিয়ানা থেকে বাসে করে ওদের আনা হয়েছিল। সেখানকার পুলিস ওদের সঙ্গে ছিল।