সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পথ দুর্ঘটনায় আহত স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এসে এই খবর শুনেছিলেন স্ত্রী। এরপরেই সকলের চোখ এড়িয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে একটি গোয়ালঘরে গিয়ে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে, উলুবেড়িয়া থানার ডোমপাড়ায়। মৃতদের নাম টিঙ্কু প্রসাদ (২৫) ও রিম্পা প্রসাদ (২২)। তাঁদের বাড়ি বাগনান থানার চন্দ্রভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের কানাইপুর গ্রামে। পুলিস দু’টি মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে কলেজ ছাত্রী রিম্পার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি টিঙ্কুর। সোমবার বাইকে চেপে টিঙ্কু বন্ধুদের সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের কাছে একটি রেস্তরাঁয় খেতে যান। কিন্তু রেস্তরাঁয় খাওয়া-দাওয়া সেরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে দেউলটির কাছে ঘটে যায় পথ দুর্ঘটনা। এতে মারাত্মক জখম হন টিঙ্কু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে, পরে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় স্বামীর আহত হওয়ার খবর এসে পৌঁছয় টিঙ্কু-রিম্পাদের বাড়িতে। সেই খবর পাওয়ার পরে রাতেই প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে আসেন রিম্পা। কিন্তু সেখানে এসে শুনতে পান, স্বামীর ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে। এতেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পরেই আত্মীয়স্বজনের চোখ এড়িয়ে রিম্পা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এরপরে রেললাইন টপকে, লাইনের পাশে থাকা একটি গোয়ালঘরে গিয়ে ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকেই রিম্পার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস।
মঙ্গলবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে শোনা গেল, গোটা বাড়িতে কান্নার রোল। টিঙ্কু প্রসাদের মা অষ্ট প্রসাদ জানান, ছেলের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বউমাও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে বাড়ি ফেরেনি। ভেবেছিলাম ছেলের কাছে আছে বোধহয়। আজ সকালে শুনলাম, বউমাও আত্মঘাতী হয়েছে। আর রিম্পার মা দিপালী সিং জানান, বাগনান কলেজে পড়তে পড়তে মেয়ে বিয়ে করে। স্বামীর মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে যেভাবে মেয়েও আত্মঘাতী হল, সেটা মানতে পারছি না।