নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বউয়ের। এই সন্দেহে ক্রুদ্ধ স্বামী শ্বাসরোধ করে খুন করল স্ত্রীকে। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় নদীয়ার ধানতলা থানা এলাকার আড়ংঘাটায়। মৃতার নাম মৌসুমী অধিকারী(২৮)। বাপেরবাড়ির তরফে জামাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সোমবার তাকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বছর তিনেক আগে মৌসুমীর সঙ্গে পরিচয় হয় আড়ংঘাটার আনন্দনগরের বাসিন্দা চঞ্চল বিশ্বাসের। পরবর্তীতে বিয়েও করে তারা। পরিযায়ী শ্রমিক চঞ্চল বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে আনন্দনগরের একটি ভাড়া বাড়িতে চলে আসে। গত কয়েক বছর সেখানেই দিব্যি তাদের সংসার চলছিল। মাস দু’য়েক আগে আড়ংঘাটার হাটপাড়ায় নতুন বাড়ি ভাড়া নেয় তারা। সম্প্রতি ছুটি নিয়ে কর্ণাটক থেকে বাড়ি ফেরে চঞ্চল। তখন থেকেই দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। রবিবার বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পরেও মৌসুমীকে বাড়ি থেকে বেরতে না দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরাই মৌসুমীর বাপেরবাড়ির লোকজনকে খবর দেন। বাপের বাড়ির লোকজন এসে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখেন, বিছানায় মৌসুমীর নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। গলায় জড়ানো রয়েছে ওড়না। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজন খবর দেয় ধানতলা থানায়। পুলিস ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে। সোমবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মৃতার বাপের বাড়ির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে আড়ংঘাটা স্টেশন চত্বর থেকে অভিযুক্ত চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিল স্ত্রী। সেই আক্রোশেই স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত করছি। দু’জনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। ধৃত জানিয়েছে, সেই আক্রোশের কারণে সে নিজেই স্ত্রীকে খুন করেছে। বাকি তথ্য তদন্তের পরেই বলা সম্ভব।