সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বাসন্তী বিশ্বাস ও শৈলেন রায়। প্রথমজন প্রাক্তন, দ্বিতীয়জন বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য। দু’জনেই তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। এঁদের মধ্যে অনেক বিষয়ে অমিল থাকলেও একটা জায়গা হুবহু মিলেছে। দু’জনেরই নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। শুধু তাঁরা নয়, মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহকুমায় এমন প্রায় ৩০০ ভোটারের হদিশ পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান, শিক্ষক, বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। এনিয়ে মহকুমায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।
মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামকৃষ্ণপাড়ার বাসিন্দা বাসন্তীদেবী। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন। তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস তৃণমূল নেত্রী। তিনি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। প্রিয়াঙ্কা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর মাটিগাড়া-২ পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন বাবা অর্ধেন্দু বিশ্বাস। তাঁর হাত ধরেই মা রাজনীতির আঙ্গিনায় পা রাখেন। মা’র বাবার বাড়ি শিলিগুড়ি শহরের আশ্রমপাড়ায়। কিন্তু, অদ্ভুদভাবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মায়ের নাম। এটা রহস্যজনক ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের রানাবস্তির বাসিন্দা শৈলেন। তিনি কট্টর তৃণমূল কর্মী। বর্তমানে পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর নামও নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে পঞ্চায়েতের সদস্য। বাবা, মা, দাদা, ভাই সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও আমার নামটা নেই। এর কারণ কী, কিছু বুঝতে পারছি না।
শুধু বাসন্তীদেবী বা শৈলেন নয়। শিলিগুড়ি শহর, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ায় এমন আরও অনেক ভোটার রয়েছেন। যারমধ্যে শিলিগুড়ি শহরের সুভাষপল্লির বাসিন্দা অসীম অধিকারী একজন। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তৃণমূলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতিও ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি স্কুলের পরিচালন সমিতির সদস্য। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে ভোটার তালিকায় নাম ওঠে। সেই সময় থেকে ভোট দিচ্ছি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে আমার এবং স্ত্রী নন্দা অধিকারীর নাম নেই। এসআইআর আবহে তাঁদেই সন্দেহ, এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।
এদিকে, তৃণমূলের অনেক পঞ্চায়েত সদস্য, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান ও ব্যবসায়ীর নাম ভোটার তালিকায় ২০০২ সালের পর নাম উঠেছে। এসআইআর পর্বে তাঁরা আতঙ্কিত। তাঁরা এজন্য জমির দলিল, পেনশনের নথি, বাবা-মা’র ভোটারকার্ড প্রভৃতি জোগাড় করছেন। মাটিগাড়ার রামকৃষ্ণপাড়ার বাসিন্দা বনমালী রায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। তাঁর স্ত্রী রত্নাদেবী বলেন, স্বামী সেনাবাহিনীতে চাকরি করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টিং হয়েছিল ওঁর। তখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারিনি। স্বামী অবসর নেওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম তুলেছি। তা ২০০২ সালের পর। এসআইআর পর্বে জমির নথি, স্বামীর চাকরির নথি জোগাড় করে রাখছি।
এদিনই মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন শতশত ভোটারের হদিশ মিলেছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল। দলের দার্জিলিং জেলার (সমতল) বিএলএ-১ পাপিয়া ঘোষ বলেন, মহকুমায় প্রায় ৩০০ জন ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। এমন সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। তাঁদের ভোটাধিকার যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ওই ভোটারদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে।