Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনড় আদিবাসীরা, শতাধিক ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে সংশয়

অনড় আদিবাসীরা। ফলে রানিবাঁধে শতাধিক আদিবাসীর ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়া নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।

অনড় আদিবাসীরা, শতাধিক ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে সংশয়
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: অনড় আদিবাসীরা। ফলে রানিবাঁধে শতাধিক আদিবাসীর ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়া নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা আদিবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে নতুন করে কেউ ফর্ম পূরণে রাজি হননি। তবে হাল ছাড়তে রাজি নন প্রশাসনের আধিকারিকরা। সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফর্ম পূরণ করানোর ব্যাপারে চেষ্টা চলবে বলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, রানিবাঁধের রাউতোড়া অঞ্চলের মুচিকাটা, শুড়িতাড়ি, খেজুরিয়া ও ভেদুয়াশোল গ্রামের শতাধিক আদিবাসী নিজেদের মাঝি সরকারের নাগরিক বলে দাবি জানান। তাঁরা ওই অঞ্চলের ২৬০, ২৬৩, ২৭৩ এবং ২৭৮ নম্বর বুথের বাসিন্দা। বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) গেলেও তাঁরা ইনিউমারেশন ফর্ম নিতে অস্বীকার করেন। মাঝি সরকারের দেওয়া কার্ডেই তাঁদের যাবতীয় কাজ হয়ে যাবে বলে আদিবাসীরা দাবি করেন। পরে রানিবাঁধ বিডিও অফিসে গিয়ে তাঁরা আধার, ভোটার ও প্যান কার্ড জমা দেন। তারপর পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। আদিবাসীদের বোঝাতে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে। বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আদিবাসীরা সরব হচ্ছেন। এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনকে বহুবার বলা সত্ত্বেও কাজ হয়নি বলে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি, বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও সমস্যা নিয়ে রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের কাছে গিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। 
একসময় রানিবাঁধ ব্লক মাওবাদীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও প্রাণ দিতে হয়েছিল। ফলে নতুন করে ক্ষোভ মাথাচার দেওয়ায় প্রশাসন সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে।  
খাতড়া মহকুমার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ রয়েছে কি না, তা ফর্ম পূরণে অনিচ্ছুক আদিবাসীদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম। আমাদের নিয়ে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। তবে রাস্তাঘাট, পানীয় জল সহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবা নিয়ে তাঁদের নানা অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাঁদের রাজি করানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, যে মাঝি সরকারের আওতায় রয়েছেন বলে আদিবাসীরা দাবি করছেন, সেই সংগঠনের ব্যাপারে অনেকেরই সম্যক ধারণা নেই। একটি সংগঠনকে তাঁরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমতুল্য বলে মনে করছেন। সেই ভ্রম থেকেই তাঁরা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে চাইছেন না। রানিবাঁধের বিডিও অনিশা যশ বলেন, আদিবাসীদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক বিক্ষুব্ধ আদিবাসী যুবক বলেন, ফর্ম পূরণ করতে অস্বীকার করার পর প্রশাসনের টনক নড়েছে। এখন কার্যত নিয়ম করে দু’বেলা আধিকারিকরা আমাদের এলাকায় পৌঁছচ্ছেন। অথচ বছরভর আমরা নানা সমস্যার মধ্যে থাকি। সেইসব সমস্যার কথা জানানোর পরেও প্রশাসন নিরুত্তর ও নিষ্ক্রিয় থাকে। আধিকারিকদের একাংশ জঙ্গলমহলের গরিব মানুষজনকে কার্যত পাত্তাই দেন না। অবিলম্বে সরকার বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠবে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ