Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইলিশের সন্ধানে সাগরে পাড়ি কয়েকশো ট্রলারের

বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ইলিশের জুড়ি নেই। ভাপা থেকে ভাজা, এক টুকরো ইলিশই যথেষ্ঠ।

ইলিশের সন্ধানে সাগরে পাড়ি কয়েকশো ট্রলারের
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ইলিশের জুড়ি নেই। ভাপা থেকে ভাজা, এক টুকরো ইলিশই যথেষ্ঠ। হেঁশেলে ইলিশের জোগান দিতে শনিবার রাত ১২টা থেকে আড়াই হাজার ট্রলার পাড়ি দিল সমুদ্রে। অধিকাংশই ভোররাতের মধ্যে সাগরে নেমে যায়। শঙ্করপুর, শৌলা, পেটুয়াঘাট ও নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের কেন্দামারিতে গত দু’মাস ধরে মাছ ধরার জাল ও ট্রলার সারানোর কাজ হয়েছে। ১৪জুন রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় ছিলেন মৎস্য‌জীবীরা। নির্ধারিত সময়ে ব্যান পিরিয়ড উঠে যাওয়ার পরই পূর্ব মেদিনীপুরের ওই চার জায়গা থেকে প্রায় ২৫০০ট্রলার ও মাছ ধরার বোট সাগরে ভেসেছে। খাদ্যরসিক বাঙালির এবার অপেক্ষার প্রহর শুরু। রবিবার মেঘলা আকাশ ছিল। সকালে ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হয়েছে। একবুক আশা নিয়ে সমুদ্রে নেমেছেন প্রায় ৩০হাজার মৎস্যজীবী।

Advertisement

একটানা দু’মাস সমুদ্রে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেকারণে সমুদ্রে ট্রলার নামেনি। সেই সুবাদে দীঘা মোহনা ফিস মার্কেটও প্রায় জনশূন্য ছিল। রবিবার সকালে সেই মোহনা ফিস মার্কেটে নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ থেকে শ্রমিকরা আসতে শুরু করেছেন। তাঁরা মোহনা মার্কেটে কাজ করেন। এদিন সকাল থেকেই সেই মোহনা মার্কেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলে। জল ঢেলে মেঝে সাফ করা থেকে দাঁড়িপাল্লা টাঙানোর কাজ চলছিল। পাঁচ-ছ’দিন পর থেকেই ট্রলার ফিরতে শুরু করবে। এই মোহনা মার্কেটে তখন পা রাখার জায়গা থাকে না। ভোর থেকেই সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা শুরু হয়। ট্রলার সমুদ্রে নামার সঙ্গে সঙ্গে রবিবার থেকেই দীঘা মোহনা মার্কেটেও ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
গত চার-পাঁচ বছর রুপোলি শস্য মুখ ফিরিয়েছে। যেকারণে ইলিশের দাম অনেকটাই বেশি। বৃষ্টি এবং পুবালি হাওয়ার উপর ইলিশ জালে ওঠা অনেকটাই নির্ভর করে। জোগান বেশি হলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু, ইলিশ পর্যাপ্ত না উঠলে মহার্ঘ হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছর এমনটাই লক্ষ্য করা গিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তাই মৎস্যশিকারও আগের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল। মৎস্যজীবী থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী সকলেই চাইছেন, এবার সাগর থেকে পর্যাপ্ত ইলিশ আসুক। সাধারণ মানুষের পাতেও ইলিশ পৌঁছে যাক।শঙ্করপুর ফিশারমেন ও ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশ নায়েক বলেন, শঙ্করপুর থেকে ৩০০ট্রলার সমুদ্রে নেমেছে। প্রতিটি মাছ ধরার ট্রলারে গড়ে ১৪জন করে থাকেন। শঙ্করপুর, শৌলা, পেটুয়াঘাট ও কেন্দামারি থেকে প্রায় আড়াই হাজার ট্রলার ও ফিসিং বোট সমুদ্রে ভেসেছে। এক সপ্তাহ পর থেকেই ফেরা শুরু হবে। সমুদ্রে মৎস্য শিকার শুরু হলেই বাঙালির ইলিশের অপেক্ষায় থাকেন। যদিও ইলিশপ্রাপ্তি অনেকটাই আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। বৃষ্টি হলে স্থলভূমি থেকে মিষ্টি জল সাগরে পড়লে ইলিশের ঝাঁক উঠে আসে। তাছাড়া পুবালি হাওয়ায় ইলিশ নাগালে চলে আসে। আশাকরি, এবছর সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ