Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ জয়দেব কেন্দুলি মেলায় কয়েক লক্ষ মানুষের পুণ্যস্নান, মেলায় ভিড়

মঙ্গলবার উদ্বোধন হল রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব কেঁদুলির মেলা। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে এদিন রাত থেকেই পুণ্যার্থীরা ডুব দেবেন অজয় নদে।

আজ জয়দেব কেন্দুলি মেলায় কয়েক লক্ষ মানুষের পুণ্যস্নান, মেলায় ভিড়
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: মঙ্গলবার উদ্বোধন হল রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব কেঁদুলির মেলা। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে এদিন রাত থেকেই পুণ্যার্থীরা ডুব দেবেন অজয় নদে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কাতারে কাতারে পুণ্যার্থী জয়দেবের মেলায় আসতে থাকেন। নির্বিঘ্নে মেলা সম্পন্ন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপের। 

Advertisement

মঙ্গলবার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছিলেন এসআরডিএ-র চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, সাংসদ অসিত মাল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ সহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। জেলাশাসক বলেন, মহাকবি জয়দেবের পদধূলিতে ধন্য এই স্থান। জয়দেবের সৃষ্ট গীতগোবিন্দ দেশের সাহিত্য, নাটক ও শিল্পকলাকে প্রভাবিত করেছে এবং বহু মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। জয়দেবই শিখিয়েছেন, হৃদয় দিয়ে ভগবানকে চাইলে পাওয়া যায়। তার জন্য কোনও আড়ম্বরের দরকার নেই। কাজল শেখ বলেন, এই মেলা ৪০০ বছরের বেশি পুরনো। ১৯৮১ সালের পর বামফ্রন্ট সরকার এই মেলা নিজের হাতে নেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। আমরা দেখেছি দূর দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা নদীর ধারে শৌচকর্ম করত। তখন দুর্গন্ধময় পরিবেশ ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পর এই মেলার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখন এই মেলা নির্মল মেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।মঙ্গলবার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বাউলদের সংবর্ধনার পাশাপাশি বাউলতীর্থ নামের একটি বইও প্রকাশিত হয়। এছাড়াও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের পরিবেশ বান্ধব ব্যাগ দেওয়া হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বাউল গান গাইতে দেখা যায় ডিপিএসসির চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েককে। একতারায় সুর তোলেন অনুব্রত। এদিন অনুব্রত মণ্ডল বলেন, জয়দেব মেলার এক আলাদা মাহাত্ম্য আছে। একটি সুন্দর পরিবেশে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সবাই আনন্দ উপভোগ করুন। মেলায় প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য অকলকে অনুরোধ করেন তিনি। প্রশাসনের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ অজয়ের জলে পুণ্যস্নান করবেন। পুণ্যস্নানের জন্য একাধিক ঘাটের পাশাপাশি মহিলাদের পোশাক বদলের জন্যও ব্যবস্থা থাকছে। স্নান করতে এসে যাতে কোনও ভাবেই দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন থাকছে। ডুবুরিও রাখা হচ্ছে। মেলায় নিত্য সাফাইয়ের জন্য শতাধিক সাফাইকর্মীও রাখা হচ্ছে। 
পুলিশ সুপার বলেন, মেলা উপলক্ষ্যে শতাধিক অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। মোট প্রায় তিন হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হবে। উইনার্স টিম, র‌্যাফ থাকছে। থাকছে কুইক রেসপন্স টিমও। মেলার সামগ্রিক নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার, ৪১টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র থাকছে। এছাড়াও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ