নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সকালে ধৃত বিধায়ক পুত্র জামিন পেলেন রাতেই। রবিবার রাত আটটা নাগাদ থানা থেকেই হুমায়ুন কবিরের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে জামিন দেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, কেনই বা পুলিশ অতিসক্রিয় হয়ে একজন জনপ্রতিনিধির ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে গেল, কেনই বা জামিনযোগ্য ধারা দিয়ে সব মিটমাট করা হল, সবটাই ধোঁয়াশা। সাধারণ কেউ হলে কি পুলিশ এমনই করত? এদিন সকালে তাঁর ছেলেকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বহরমপুর থেকে হুমায়ুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পুলিশ যদি বাড়িতে কোনও অশালীন আচরণ করে তাহলে এসপি অফিস ঘেরাও করা হবে। বহরমপুর স্তব্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। ছেলেকে আটক করার খবর পেয়ে হুমায়ুন শক্তিপুর থানায় পৌঁছন। এর পর প্রায় ঘণ্টাখানেক পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন ভরতপুরের বিধায়ক। রণং দেহী হুমায়ুন থানা থেকে বেরিয়েই সুর নরম করে বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’ হুমায়ুনের দাবি করেছিলেন, ‘জেলা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে সুস্থ, সুষ্ঠু আলোচনা হয়েছে। দুই ওসি, আইসি ও এসডিপিও’র সঙ্গে কথা বলে আমি খুশি। আমার আইনজীবী আসছেন। জামিনে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেব।’ হলও তাই। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ সেই সময়ে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি টিভির ফুটেজ আমরা খতিয়ে দেখব। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন। তাই অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে পুলিশের গায়ে হাত তুলে বেকায়দায় পড়েন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির ও তাঁর ছেলে। বিধায়ক নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে তিনজন পিএসও পান। তাঁদেরই একজনকে রবিবার সকালে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই পুলিশ কর্মীর অভিযোগ পেয়ে শক্তিপুরে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। কিন্তু বাড়ির সদর দরজা আটকে ভিতরে লুকিয়ে থাকেন হুমায়ুন কবিরের ছেলে। কয়েকঘণ্টা অপেক্ষা করার পর পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বিধায়কের ছেলে বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধক্ষ্য।
জানা গিয়েছে, এদিন শক্তিপুরের বাড়িতে নিজের অফিসঘরে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকজনের সঙ্গে নবগঠিত ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র সংগঠন নিয়ে আলোচনা করছিলেন হুমায়ুন। তাঁর ছেলে এবং তিনি যখন আলোচনায় মগ্ন, সে সময়ে বিধায়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মী হঠাৎ অফিসে ঢুকে পড়েন। ‘কী চাই’ জিজ্ঞাসা করায় সেই কনস্টেবল জানান, তাঁর ছুটি প্রয়োজন। ব্যক্তিগত কিছু কাজ রয়েছে। এই শুনে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ। এরপরই হুমায়ুনের পুত্র ওই পুলিশ কর্মীর গায়ে হাত তোলেন। বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। জখম পুলিশ কর্মীর নাম, জুম্মা খান। থানায় অভিযোগ জানানোর পর তাঁর চিকিৎসা করানো হয়েছে। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন প্রায় এক বছর আগে থেকে রাজ্য পুলিশের তিনজন সিকিউরিটি পান। দুজন সিকিউরিটি সব সময়ে তাঁর সঙ্গে থাকেন। তিনজনের মধ্যে একজন করে পর্যায়ক্রমে ছুটি নেন। এদিন জুম্মা ছুটি চাইতেই গণ্ডগোল শুরু হয় বলে দাবি বিধায়কের। এর আগে প্রকাশ্যে সভা থেকে একাধিকবার হুমায়ুনকে পুলিশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শোনা গিয়েছে। আর এবার পুলিশের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ হুমায়ুন এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ গোলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, পুরো বিষয়টি বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।