Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তৈরি ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির হুজুর কাছারি ভবন

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির হুজুর কাছারি ভবন ছিল প্রশাসনিক কার্যালয়। ভবনটি সংস্কার করে স্বাধীনতার পূর্বের আগের চেহারা দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তৈরি ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির হুজুর কাছারি ভবন
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির হুজুর কাছারি ভবন ছিল প্রশাসনিক কার্যালয়। ভবনটি সংস্কার করে স্বাধীনতার পূর্বের আগের চেহারা দেওয়া হয়েছে। যেসব পর্যটক ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির গেস্ট হাউস বুকিং করবেন তাঁরাই এখনে রাত কাটাতে পারবেন। একেবারে রাজকীয় পরিবেশে থাকার সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থাও থাকছে এখানে। 

Advertisement

তখন ব্রিটিশ আমল। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্ম একসময় হুজুর কাছারি বাড়িতেই হত।রাজস্ব আদায় থেকে শুরু করে কৃষি , সেচ, বন, ভূমি,পূর্ত সহ একাধিক দপ্তরের কাজ চলত এখানে।ব্রিটিশ এম্পায়ারের প্রতিনিধি অফিসার রাজপাট পরিচালনা করতেন।ব্রিটিশ সরকারের শেষ অফিসার ছিলেন রায়বাহাদুর দেবেন্দ্র মোহন ভট্টাচার্য।রাজবাড়িতেসেইসময় ব্রিটিশ সাহেবদের আনাগোনা লেগেই থাকত। রাজবাড়ি-র হুজুর কাছারি ভবনে সরকারি কাজকর্মের মাঝেই চলত খাওয়া দাওয়া,গান বাজনা,বিলিয়ার্ড , ব্যাডমিন্টন ও টেনিস খেলা। লন্ডন, নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর,হংকংও ভারতের সময় নির্দেশকারী পৃথক, পৃথক দেওয়াল ঘড়ি রয়েছে এখানে। ব্রিটিশ সরকারের ক্রাউন রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের অফিসার ও প্রশাসনের সাহেব আধিকারিকরা কাছারি ভবনে আলোচনা, আড্ডায় মেতে উঠতেন। দুধকন্ডি বিমান ঘাঁটির মার্কিন অফিসাররাও ভবনে আসতেন। প্রশাসনিক কাজের শেষে অবসর যাপনের কেন্দ্র ছিল এই ভবন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজবাড়ির রাজপাট অস্তমিত হয়।এরপর থেকে হুজুর কাছারি ভবনের প্রয়োজনীতা কমে আসে।
ঐতিহাসিক এই ভবন দীর্ঘদিন ভগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিল। রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের তরফে ভবনটির সংস্কার হয়েছে।ব্রিটিশ সাহেবদের টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টও সংস্কার হয়েছে। হজুর কাছারি ভবনের চারটি ঘরে পর্যটকরা থাকতে পারবেন।ইন্ডোর বিলিয়ার্ড খেলার সঙ্গে ব্যাডমিন্টন ও টেনিস খেলাও যাবে। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে হেরিটেজের তকমা দিয়েছে। বিদেশেরভারতীয় দূতাবাস থেকে এখন হেরিটেজ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির প্রতিনিধি বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, রাজবাড়ির হুজুর কাছারি ভবন থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা হত একসময়। ব্রিটিশ অফিসাররা এখানে আসতেন। কাছারিভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।ভবনটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।যেসব পর্যটন ঝাড়গ্রাম অতিথিশালায় থাকার জন্য বুকিং করবেন তাঁরাই এখানে থাকতে পারবেন।তবে সবপর্যটক রাজবাড়ির ভিতর ঢুকতে পারবেননা। 
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির তরফে হরিণছাড় চিড়িয়াখানা, পুরনো পোস্ট অফিস ভবন সংস্কার হয়েছে।হুজুর কাছারি ভবন বহু ইতিহাসের সাক্ষী। রাজবাড়ির রোমাঞ্চকরদর্শন এবার পর্যটকদের যেন অতীতে নিয়ে যাবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ