নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়গা হয়েছে বিএলওর দায়িত্ব। যার ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিপুল শিক্ষক ঘাটতি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে। পঠনপাঠন ও মিড ডে মিল সামাল দিতে হিমশিম বেশকিছু স্কুল। পাশের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের পাঠিয়ে কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ইতিমধ্যেই মৌখিকভাবে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, মাত্র একজন বা দুজন করে শিক্ষক ছিল যে সমস্ত বিদ্যালয়ে, সেখানকার কোনও শিক্ষক এসআইআরের কাজে গেলে পাশের বিদ্যালয়ের প্রাথমিকের শিক্ষকদের গিয়ে ওই স্কুলে পড়াতে হবে। এভাবেই শিক্ষক ঘাটতি ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার মোট ৫৮৯৫ বুথে বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম বিল করা শুরু করেছেন। এই প্রায় ছয় হাজার বিএলওর মধ্যে ৯০ শতাংশ প্রাথমিকের শিক্ষক শিক্ষিকা। প্রাথমিকের অনেক পার্শ্ব শিক্ষকদেরও এই কাজে নামানো হয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়াই এখন চ্যালেঞ্জ।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) অপর্ণা মণ্ডল বলেন, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক বা শিক্ষিকা ছিলেন, সেখানে আমরা আগেই আরও একজন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চলছিল। এখন বিএলও হিসেবে ডিউটি করার জন্য বহু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নেওয়া হয়েছে। তাই পড়াশোনার যাতে ঘাটতি না হয়, সেজন্য আমরা মৌখিকভাবে এসআইদের নির্দেশ দিয়েছি। পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাঠিয়ে পঠনপাঠন ও মিড ডে মিলের সুষ্ঠ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পুজোর পরে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠনপাঠন শুরু হয়। কিন্তু তারপরই কমিশনের নির্দেশ মতো শিক্ষকরা বিএলওর কাজে দেন। ফলে বিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা লাটে ওঠার জোগাড়। পাশের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও তাতে শুরু হয়েছে নতুন সমস্যা। কয়েকদিনের জন্য নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানিয়ে নিতেও সমস্যা হচ্ছে পড়ুয়াদের। খাপছাড়া ভাবে পড়াশোনা হওয়ায় চিন্তায় অভিভাবকরাও।
বহরমপুরের বাসিন্দা নিরুপম দাস বলেন, শহরে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিএলও হিসেবে নামানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ তাঁরা করতে বাধ্য। কিন্তু এদিকে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কী হবে! এসব কারণেই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভিড় বাড়ছে। আর সরকারি স্কুলের পড়ুয়া কমছে। আমাদের সামর্থ্য নেই, তাই ছেলেমেয়েদের সরকারি প্রাথমিকে ভর্তি করেছি। ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে বেশিরভাগ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এসআইআরের কাজে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম বিলির কাজ করছেন। যে সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা খুব কমে গিয়েছে, সেখানে আমরা মৌখিকভাবে বলে পাশের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।