Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেয়ারে লগ্নি করে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি, মা সহ তিন পোষ্যকে অ্যাসিড খাইয়ে হত্যা!

সোমবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল আসানসোল দক্ষিণ থানার রাশডাঙা।

শেয়ারে লগ্নি করে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি, মা সহ তিন পোষ্যকে অ্যাসিড খাইয়ে হত্যা!
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল আসানসোল দক্ষিণ থানার রাশডাঙা। দেনার দায়ে মা, তিনটি পোষ্য সারমেয়কে কার্বলিক অ্যাসিড খাওয়ালেন অরবিন্দ দাস। পেল্লাই জাহাজবাড়ি থেকে একে একে তিন পোষ্যের নিথর দেহ উদ্ধার হল। বাড়ির মালকিন যুথিকা দাস ও ছেলে অরবিন্দ দাসকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক প্রাক্তন শিক্ষিকা যূথিকাদেবীকে (৬৭) মৃত ঘোষণা করেন। অরবিন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অরবিন্দ বাজার থেকে ধার নিয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। টাকা মেটানোর জন্য পাওনাদাররা চাপ দিতে থাকেন। দেনার দায়েই নিজের তিন পোষ্যকে কার্বলিক অ্যাসিড খাইয়ে মেরে ফেলেন। তারপর মা ও ছেলে মিলে কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে হাতের শিরা কাটেন। এমনকী, আত্মহত্যা করছেন বলে ঘনিষ্ঠদের হোয়াটসঅ্যাপে লেখেন। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, অরবিন্দবাবুর বাবা স্বপনকুমার দাস, যূথিকাদেবী ও পিসি সুব্রতা দাস তিনজনই সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁরাই জাহাজের আদলে বিশাল বাড়ি তৈরি করেন। এলাকায় তা ‘জাহাজবাড়ি’ নামেই পরিচিত ছিল। অরবিন্দকেও নামী বেসরকারি স্কুলে পড়িয়ে বেঙ্গালুরুতে এমবিএ করান। ২০১১ সালে স্বপনবাবু মারা যান। বছর পাঁচের আগে তাঁর পিসি মারা যান বলে এলাকাবাসীর দাবি। প্রতিবেশী জানান, অরবিন্দ বেঙ্গালুরুতে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে কাজ ছেড়ে বাড়িতে থাকা শুরু করেন। এই অবস্থা চলতে থাকার পরই এই ধরনের ঘটনা। 
পুলিসের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অরবিন্দর আত্মঘাতী হওয়ার মেসেজ দেখেই পুলিসকে বিষয়টি জানান ঘনিষ্ঠরা। পুলিস দরজা ভেঙে বাড়ির একই ঘর থেকে তিনটি কুকুর ও মা-ছেলেকে উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাড়াটিয়াকে আটক করে পুলিস। মেসেজে অরবিন্দ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা টাকার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ। পুলিস সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যূথিকাদেরী মারা গেলেও চিকিৎসার পর সুস্থ রয়েছেন অরবিন্দ। এদিন তাঁকে ইমার্জেন্সিতে এসে মায়ের ময়নাতদন্ত করানোর জন্য ঩বিভিন্ন নথিতে সইও করতে দেখা যায়। তিনি ছিলেন ভাবলেশহীন। 
পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেয়েছে, অরবিন্দ শেয়ার বাজারে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। লোকের কাছে টাকা ধার করেছেন। এমনকী, ভাড়াটিয়ার কাছেও নাকি কয়েক লক্ষ টাকা ধার করেছেন। ভাড়াটিয়া ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছে, বাড়ির নীচতলা তাঁকে লিখে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল। তারপর আর বাড়ি বিক্রি করেননি। ওই বাড়ি বন্ধক রেখে আরও টাকা ধার করেন। একের পর এক পাওনাদারের চাপে কোণঠাসা হয়ে যান মা ও ছেলে। অরবিন্দর বিদেশি কুকুর বিক্রির ব্যবসা ছিল। কিন্তু তাতেও লাভ হচ্ছিল না। তারপরই কুকুরগুলিকে মেরে নিজেরা আতহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।  ঘটনার 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ