Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘাগামী ট্রেনে ব্যাপক ভিড় জগন্নাথ দর্শনে বঞ্চিত বহু ভক্ত

জামাইষষ্ঠীর ভূরিভোজ সেরে সোজা দীঘা। এরকমই পরিকল্পনা ছিল বহু দম্পতির।

দীঘাগামী ট্রেনে ব্যাপক ভিড় জগন্নাথ দর্শনে বঞ্চিত বহু ভক্ত
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জামাইষষ্ঠীর ভূরিভোজ সেরে সোজা দীঘা। এরকমই পরিকল্পনা ছিল বহু দম্পতির। তারমধ্যে অনেকে স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে, আবার অনেকে শ্যালক-শ্যালিকা, বোন-ভগ্নিপতিকে নিয়ে দীঘায় ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা সেরে রেখেছিলেন। দীঘাগামী ট্রেনের জন্য স্টেশনে স্টেশনে ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁরা। পাঁশকুড়া, তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক সহ দীঘাগামী প্রায় সবক’টি স্টেশনে সকাল থেকেই ভিড় থিক থিক করছিল। প্রত্যেকে সকাল ৮টার মেচেদা-দীঘা লোকালের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু, মেচেদা থেকেই ওই লোকালে একবারে দমবন্ধ করার মতো ভিড়। প্রায় সবকটি গেটে বাদুড় ঝোলা অবস্থা। পাঁশকুড়া থেকেই ট্রেনে ওঠার জায়গাই ছিল না। টিকিট কেটেও ট্রেনে চড়তে না পেরে স্টেশনে স্টেশনে বিক্ষোভ দেখান মানুষ। সোমবার সকাল থেকেই নন্দকুমার স্টেশনে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। টিকিট কাউন্টারের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়। স্টেশন মাস্টারের ঘরের ভিতর ঢুকেও যাত্রীরা ক্ষোভ উগরে দেন। প্রত্যেকের দাবি, টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হোক।

Advertisement

শুধু নন্দকুমার নয়, এদিন সকালে লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনে ৭০০ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। সচরাচর ওই হল্ট স্টেশনে তিনশো টিকিট বিক্রি হয়। কিন্তু, জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে বাড়তি চাপ ছিল। টিকিট কাটলেও সিংহভাগ যাত্রী অত্যধিক ভিড়ে ট্রেনে ওঠতেই পারেননি। তাঁরা টিকিট বুকিং এজেন্ট ভরতচন্দ্র দাসকে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে বিক্ষোভ দেখান। যাত্রীদের বক্তব্য, টিকিট না কেটে কেউ ট্রেনে চড়লে টিটি ফাইন করেন। তাহলে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়তে না পারলে রেল টাকা ফেরত দেবে না কেন? নন্দকুমার স্টেশনে এক ঘণ্টার বেশি বিক্ষোভ চলে। আরপিএফ বিক্ষোভরত যাত্রীদের সরিয়ে দেয়। সকাল ৮টার মেচেদা-দীঘা লোকালের পর সকাল ১১টায় পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল ট্রেন ছাড়ে। অনেকেই ওই স্পেশাল ট্রেনের আশায় স্টেশনে বসেছিলেন। সেই স্পেশাল ট্রেনও যাত্রীদের হতাশ করে। পাঁশকুড়ায় ওই ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে একেবারে হাউসফুল হয়ে যায়। যে কারণে তমলুক থেকে হেঁড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বেশিরভাগ যাত্রী উঠতে পারেননি। তাঁরা ধৈর্য হারিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। সকাল ৮টার মেচেদা-দীঘা লোকাল ট্রেনটি আদতে সাঁতরাগাছি ছেড়ে আসে। মেচেদায় এসে শুধুমাত্র ট্রেনের নম্বর বদল হয়। কিন্তু, রেক বদল হয় না। যে কারণে মেচেদায় ঢোকার আগে থেকেই ওই ট্রেন যাত্রীভর্তি হয়ে আসে। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে সোমবার অতিরিক্ত ভিড় ছিল। যে কারণে পাঁশকুড়া স্টেশন থেকেই ট্রেনে পা গলানো প্রায় অসম্ভব ছিল। সকাল ১১টার দীঘা-পাঁশকুড়া লোকাল গত ৯ এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে। ওই ট্রেনটি দু’ মাসের জন্য চালু করেছে রেল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুন পর্যন্ত সেটি চলবে। ওই ট্রেনকে নিয়মিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন এই দাবিতে রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।
নন্দকুমারের স্টেশন মাস্টার বুলবুল কুমারী বলেন, কোনও ফেস্টিভ্যালের সময়ে দীঘা যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত যাত্রীচাপ তৈরি হয়। সোমবারও তেমনটাই হয়েছিল। আমরা যাত্রীদের অসুবিধা বুঝতে পারছি। তাঁরা টিকিট কেটেও ট্রেনে চড়তে না পেরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ