সংবাদদাতা, হলদিয়া: চৈতন্যপুরে গোবিন্দপুর আগমনি মহিলা পুজো কমিটির বাসন্তী পুজোয় ‘অন্নকূট উৎসব’ দেখতে শনিবার অষ্টমীতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ল। গোবিন্দভোগ চালের পোলাও, আখের গুড়, তাল গুড়, খেজুর গুড়, বাতাসা, মিছরির রকমারি পরমান্ন, বিভিন্ন রকমের ডাল, নানাবিধ সব্জির ১৫৬টি পদ রান্না করা হয়। পোড়ামাটির নকশা করা সুদৃশ্য পাত্রে বাসন্তী মায়ের কাছে ভোগ নিবেদন করেন গ্রামের শতাধিক মহিলা। রীতি ও আচার মেনে এদিন ভোর থেকে মহিলারা নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের ভোগ রান্না করেন। এরপর মাটির পাত্রে কাপড় ঢেকে লাইন দিয়ে সেগুলি মাথায় করে মণ্ডপে নিয়ে আসেন। শুধু গোবিন্দপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মহিলা পুরুষ, নানা বয়সি মানুষ অন্নকূট উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন। অন্নকূট উৎসবের পরই দুপুর থেকে শুরু হয় কুমারী পুজো। রবিবার পুজোর বড় আকর্ষণ সপ্তসতী যজ্ঞ। মার্কণ্ডেয় পুরাণ মেনে সাতশো শ্লোক উচ্চারণ করে দেবীবন্দনা হয় এবং আহুতি দেওয়া হয় সপ্তসতী যজ্ঞে।
এই বাসন্তী পুজোর আয়োজক গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। পুজোর জন্য তাঁরা আলাদা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৈরি করেছেন। সারা বছরের জমানো অর্থে হয় পুজোপাঠ। গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা আদায় করেন মহিলারাই। এবছর তাঁদের পুজো চতুর্থ বর্ষে পড়েছে। গ্রামের প্রায় ৮০জন মহিলা এই পুজোর আয়োজন করেছেন। পুজোর বাজেট প্রায় চার লক্ষ টাকা। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন করেন হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিবেকাত্মানন্দজি মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তাপসী মণ্ডল, জেলা পরিষদ সদস্য অভিষেক দাস, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পার্থ বটব্যাল, উদ্যোগপতি প্রশান্ত মাভৈ ও পঞ্চায়েতের মহিলা সদস্যরা। উদ্বোধনের দিন শতাধিক মহিলার হাতে নতুন শাড়ি উপহার তুলে দেন বিশিষ্টজন ও আগমনির মহিলারা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় পুজোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মঞ্চ মাতিয়েছে মহামায়া পুতুল নাচ। আজ, নবমীতে সপ্তসতী যজ্ঞের পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষকে মায়ের প্রসাদ খাওয়ানো হবে। সন্ধ্যায় রয়েছে বড়মাপের বিচিত্রানুষ্ঠান। পুজো উপলক্ষ্যে প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় গ্ৰামের কচিকাঁচাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
আগমনি মহিলা পুজো কমিটির সভাপতি মানসী পড়ুয়া এবং সম্পাদক আলপনা মাইতি বলেন, কমিটির মহিলারা বাড়িতে মুরগি পালন করে, চাষবাস করে প্রায় সকলেই স্বনির্ভর। তাঁরা সারা বছর অর্থ জমিয়ে, চাঁদা তুলে পুজোর উদ্যোগ নেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথা সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোককুমার মিশ্র বলেন, মহিলা পরিচালিত এই পুজো ঘিরে দারুণ আবেগ তৈরি হয়েছে।