Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়রামবাটি ও কামারপুকুরে মা সারদার জন্মতিথি উপলক্ষ্যে বিপুল ভক্তের ভিড়

মা সারদার ১৭৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মাতৃধাম জয়রামবাটিতে ভক্তের ঢল নামে। এদিন ভোর থেকে মাতৃধামে বিশেষ পুজো শুরু হয়।

জয়রামবাটি ও কামারপুকুরে মা সারদার জন্মতিথি উপলক্ষ্যে বিপুল ভক্তের ভিড়
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মা সারদার ১৭৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মাতৃধাম জয়রামবাটিতে ভক্তের ঢল নামে। এদিন ভোর থেকে মাতৃধামে বিশেষ পুজো শুরু হয়। সকালে প্রভাতফেরি ও দিনভর ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। গতবছর থেকে জয়রামবাটিতে সারদা মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ভক্তরা মাতৃ দর্শনের পাশাপাশি মেলার আনন্দ উপভোগ করেন। দিনটি উপলক্ষ্যে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনেও বহু ভক্ত ভিড় করেন। মঠের তরফে এদিন মন্দির চত্বর সাজানো হয়। সেখানে বিশেষ পুজো-পাঠের আয়োজন করা হয়। হোম হয়। এছাড়া দিনভর নানা অনুষ্ঠানে কামারপুকুরও উৎসব মুখরিত হয়।

Advertisement

কামারপুকুর মঠের অধ্যক্ষ স্বামী লকোত্তরানন্দজি মহারাজ বলেন, ভোরে মঙ্গলারতির মাধ্যমে এদিন সারদা মায়ের জন্মতিথি পালন অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর বেদপাঠ, ভজন অনুষ্ঠান হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ দেব ও মা সারদার বিশেষ পুজো হয়েছে। অনেক ভক্ত কামারপুকুরের গেস্ট হাউসে আছেন।
মাতৃ মন্দিরের মুখপাত্র স্বামী পররূপানন্দজি বলেন, এই জয়রামবাটিতে মা সারদা ৬০বছর কাটিয়েছেন। তাঁর ১৭৩তম আবির্ভাব তিথিতে এদিন জয়রামবাটিতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্তের সমাগম হয়। ভোর থেকে বিশেষ পুজো সহ ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জন্মতিথি পালন করা হয়।   
মাতৃমন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর সাড়ে ৪টেয় মঙ্গলারতি শুরু হয়। তারপর ক্রমান্বয়ে বেদপাঠ, স্তবগান ও মায়ের বিশেষ পুজো হয়। অধ্যক্ষ সহ অন্যান্য মহারাজরা পূজার্চনায় মগ্ন হন। দিনভর ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাতৃ আরাধনা চলে। সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জয়রামবাটি গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মায়ের বিভিন্ন রূপে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। মাতৃমন্দির প্রাঙ্গণে মঞ্চে ভক্তিগীতি, হোম ও গীতিআলেখ্য হয়। দুপুরে বাউল সঙ্গীত এবং বিকেলে ধর্ম সভা হয়। সন্ধ্যায় ভজন ও আরতি হয়। দুপুরে প্রায় পাঁচ হাজার ভক্তকে প্রসাদ বিলি করা হয়। এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃধামে ভক্তের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মায়ের সামনে আরাধনায় বসেন। অনেকেই আগের দিন থেকে মাতৃধামে চলে আসেন। তাঁরা এদিন সকালে শোভাযাত্রাতেও অংশ নেন।  
লন্ডন থেকে এসেছিলেন অস্মিতা তুঙ্গারি। তিনি বলেন, এই প্রথমবার বাবা ও মায়ের সঙ্গে জয়রামবাটি এলাম। এখানে এসে আলাদা অনুভূতি পেলাম। যা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় না। অস্মিতার বাবা মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা প্রফুল্ল তুঙ্গারি ও মা মৃদুলা তুঙ্গারি বলেন, আমি এনিয়ে পঞ্চমবার জয়রামবাটি এলাম। এখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়।
অসম থেকে জয়রামবাটিতে এসেছিলেন শুক্লা দাস, কণিকা দাস, সুদীপ্তা দত্ত। তাঁরা বলেন, আমরা প্রতিবার এদিন জয়রামবাটি আসি। বুধবারই মাতৃধামে চলে এসেছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে হয়েছে। হাওড়ার বাসিন্দা শম্পা সাঁতরা বলেন, মাতৃমন্দিরে এলে মনে প্রশান্তি আসে। কলকাতার বাসিন্দা অনিমেষ রায় বলেন, সুযোগ পেলেই মাঝে মধ্যে জয়রামবাটিতে ঘুরে যাই। তবে মায়ের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে এবারই প্রথম এলাম। মায়ের টানে এত মানুষের ভিড় দেখে আমি আপ্লুত হয়ে গিয়েছি। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া স্থানীয় ছাত্রী রাশি বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবস্মিতা পাঁজা, শ্রীপর্ণা বাড়ুই বলেন, মায়ের মাটিতেই আমাদের জন্ম। কত দূর দূর থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে। এটা ভেবেই আমাদের ভীষণ গর্ব বোধ হয়। 
 জয়রামবাটিতে সারদামা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ