নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বাঁধা ধরা নিয়মে ইতি পড়েছে আগেই। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে। নয়া পদ্ধতি অনুসারে, এবার ২০২৬ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পার্ট-১ অর্থাৎ তৃতীয় সেমেস্টার শুরু হবে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই। বলাবাহুল্য, বর্ষার মরশুমেই চলবে পরীক্ষা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ বাড়তি নজর দিয়েছে। নিচু এলাকা অর্থাৎ অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে হতে পারে, এমন এলাকায় থাকা স্কুলগুলিকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হবে না। হাইল্যান্ড এরিয়া অর্থাৎ যেসব এলাকায় বৃষ্টি হলেও জল জমার সম্ভাবনা নেই, এমন এলাকায় থাকা স্কুলগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে শুরুতেই বিকল্প পরীক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংসদের তরফে। পরীক্ষক সঙ্কট রুখতে প্রয়োজনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাজে লাগানো হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
শনিবার সিউড়ির রবীন্দ্র সদনে তাঁর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলার ২৯৯টি স্কুলের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। এদিনের ম্যারাথন বৈঠকে মূলত সেমেস্টার পদ্ধতি ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। নয়া পদ্ধতিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে স্কুলগুলির ভূমিকা কী থাকবে, তা নিয়ে সংসদ সভাপতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে স্কুলগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশিকাও দিয়েছেন। সংসদ সভাপতি বলেন, দেশের মধ্যে এই প্রথম সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হতে চলেছে। বর্ষার মরশুমে প্রথম পরীক্ষা হবে। এক্ষেত্রে একাধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এবছর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখ থেকে তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হবে। চলবে ২২ তারিখ পর্যন্ত। এই সময়কালে বিশ্বকর্মা পুজো এবং মহালয়া রয়েছে। সেক্ষেত্রে তারস্বরে মাইক বাজানোর জেরে পরীক্ষার্থীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, বর্ষার মরশুমে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করাটাই অবশ্য সংসদের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনে পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্র বদল করা হতে পারে। মূলত, বন্যা সহ ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটলেই পরীক্ষাকেন্দ্র বদল করা হবে। সেক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে বিকল্প পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে কলেজ ভবন ব্যবহার করা হতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে পরীক্ষা শুরুর আগে দু’জন পরীক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে। এছাড়াও পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের আগে কোনও পরীক্ষার্থীকে হল থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না। জল পান কিংবা শৌচালয় ব্যবহারের অনুমতিও মিলবে না। সর্বোপরি, সম্পূর্ণ পরীক্ষা পদ্ধতি সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ফুটেজ নির্দিষ্ট স্কুলগুলিকে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। ওএমআরে সামান্য ভুল হলে নির্দিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে।