সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিরামপুরের জগদল এলাকায় মাটি খুঁড়তেই উঠে এলো প্রাচীন তিনটি বড় কালোপাথরের পিলার। সেই স্তম্ভ নিয়ে গিয়েছে হরিরামপুর থানা। হরিরামপুর ব্লকের বৈরাঠার জগদল এলাকার অমল মাহাতো বাড়ি তৈরির জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ করছিলেন। আর্থমুভার দিয়ে খনন করার সময় প্রাচীন ছোট ছোট ইট বেরোতে থাকে। তারপরেই উঠে আসে কালো পাথরের তিনটি স্তম্ভ। সোমবার রাতে বিষয়টি সামনে আসতেই খবর যায় হরিরামপুর থানায়। পুলিস তিনটি স্তম্ভ উদ্ধার করে হরিরামপুর থানায় নিয়ে যায়। সম্প্রতি জেলার ইতিহাস অনুসন্ধান পরিষদের সদস্য ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রায়গঞ্জ শাখার সুপারিন্টেন্ডেন্ট হরিওম শর্মার টিম হরিরামপুর ব্লকের জগদল, সুরাহার, মহাটোর, ভেলাগাছি এলাকায় প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন খুঁজতে পরিদর্শন করে। উদ্ধার হওয়া কালো পাথরের স্তম্ভতে সূর্য ও বুদ্ধমূর্তির নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। জেলার ইতিহাস গবেষণা সংস্থার দাবি, হরিরামপুর ব্লকের জগদল এলাকায় একসময়ের জগদল বৌদ্ধবিহার ছিল। বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক তথা প্রখ্যাত পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জন্ম হয়েছিল শ্রীমতি নদীর তীরে সুরাহার গ্রামে। জেলায় ইতিহাসবিদরা বরাবর দাবি করে আসছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আজও হরিরামপুর ব্লকের বৈরাঠা এলাকায় খনন করলেই ঐতিহাসিক নিদর্শন উঠে আসে। প্রচুর বুদ্ধ ও সূর্যমূর্তি উদ্ধার করে হরিরামপুর থানা ও জেলা মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে হরিরামপুর ব্লকে পাল, সেন ও গুপ্ত যুগের নিদর্শন সামনে আসছে। হরিরামপুর থানার আইসি অভিষেক তালুকদার বলেন, জগদল এলাকায় তিনটি পাথরের স্তম্ভ উদ্ধার হয়েছে। প্রাচীন সামগ্রী থানার মালখানায় জমা করা হয়েছে। ইতিহাস অনুসন্ধান পরিষদের সহ-সম্পাদক সূরজ দাস বলেন, বৌদ্ধধর্মের আদিক্ষেত্র হরিরামপুর ব্লক। আমাদের সংস্থার অধ্যাপক হিমাংশু কুমার সরকার ৪০ বছর ধরে জেলার ইতিহাস নিয়ে কাজ করেছেন। বাংলা ভাষা এবং গুপ্ত, পাল যুগের আদি উদ্ভব ক্ষেত্র হরিরামপুর ব্লক। আমাদের সেই দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে বারবার। আমরা জেলাশাসক, বালুরঘাটের সাংসদকে স্মারকলিপি দিয়ে খনন কাজের মাধ্যমে ইতিহাস পুনরুদ্ধারের আবেদন জানিয়েছি।



