সংবাদদাতা, কাঁথি: লক্ষ্য, হারিয়ে যেতে বসা বা বিলুপ্তপ্রায় মাছ বাঁচিয়ে রাখা এবং তাদের সংরক্ষণ। কাঁথির জুনপুট এলাকায় মৎস্যদপ্তরের একাধিক জলাশয়কে ঘিরে ‘অভয়পুকুর’ বা ফিশ স্যাংচুয়ারি গড়ে তুলেছে মৎস্যদপ্তর। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, তাদের প্রাকৃতিক ও সহজাত জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে অভয়ারণ্য বলা হয়। সেই অভয়ারণ্যের আদলেই বিভিন্ন ধরনের দেশীয় মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছে অভয়পুকুর। পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের সহযোগিতায় রাজ্যের ছ’টি জায়গায় এই অভয়পুকুর গড়ে তোলা হয়েছে। তারমধ্যে জুনপুট অন্যতম। জুনপুটে ফিশারি প্রজেক্ট চত্বরে দেড় বিঘা করে দু’টি পুকুর নির্বাচন করেছে কর্তৃপক্ষ। মোট ৩৩ধরনের দেশীয় প্রজাতির মাছ ছোট ও পরিণত অবস্থায় এনে জলাশয়ে ছেড়ে বড় করা হচ্ছে। সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জলাশয়গুলিতে আপাতত পুঁটি, মৌরলা, দেশি কই, ল্যাটা, শিঙি, ভ্যাদা, ট্যাংরা, পাঁকাল, ন্যাদোস প্রভৃতি মাছের তিন হাজার করে চারা ছাড়া হয়েছে। অথচ আগে এই সমস্ত দেশীয় মাছ যার বেশিরভাগই সুস্বাদু, তা বাজারে পাওয়া যেত। এখন অনেক মাছই বিলুপ্ত হওয়ার পথে। দূষণ সহ নানা পারিপার্শ্বিক কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এই সমস্ত মাছ। যা এখন বাজারে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। এই পরিস্থিতিতে এমন পরিকল্পনা।
Advertisement
জুনপুট ছাড়াও দক্ষিণ ২৪পরগনার হেনরি আইল্যান্ড, আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট, বাঁকুড়ার ওন্দা, পূর্ব বর্ধমানের যমুনাদিঘি এবং মালদহের বড় সাগরদিঘি এলাকায় অভয়পুকুর তৈরি করা হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, হারিয়ে যেতে বসা মাছগুলির সংরক্ষণ, প্রজনন ও সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। প্রকল্প রূপায়ণে খরচ হচ্ছে ১৮লক্ষ টাকা। ধাপে ধাপে টাকা দেবে মৎস্যদপ্তর। উৎপাদিত মাছ বড় হলে তা আবার মৎস্যচাষিদের বিক্রি করার জন্য দেওয়া হবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট মাছ হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারণ, তাদের আবাসস্থল ও প্রজননস্থল বিনষ্ট হয়ে যাওয়া। যথেচ্ছ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ কমে গিয়েছে। কেমন হয় অভয়পুকুর? এর উপযুক্ত পরিবেশই বা কেমন? দূষণহীন পুকুরে উপযুক্ত গাছপালা তৈরি করা হবে। সেখানে অন্য কোনও মাছ চাষ করা হবে না। শুধুমাত্র সংরক্ষণের জন্যই ব্যবহার করতে হবে। জলাশয়ের চারদিক ঘিরে রাখতে হবে। ২৫- ৩০শতাংশ জলজ গাছ থাকবে। শ্যাওলা, হাইড্রেলা, পানা, পাতিঘাস, কুলেখাড়া, হিঞ্চে, শুশনির মতো জলজ গাছের উপস্থিতি পুকুরে নিশ্চিত করতে হবে। মাছের খাবার হিসেবে ঘরোয়া খাদ্য যেমন, ভাত, কুঁড়ো দিতে হবে। কংক্রিটের ঘাটের বদলে খেজুর, তালের গুঁড়ি দিয়ে ঘাট তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ ৩০-৪০বছর আগে গ্রাম-বাংলার পুকুরঘাট যেভাবে ছিল, সেরকমই। যেখানে ছোট মাছ নির্ভয়ে থাকতে পারবে। জুনপুটেও অনেকটা সেই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষ। তবে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দেশীয় ছোট মাছ বর্ষাকালে বংশবিস্তারের সময় ডাঙায় উঠে আসে। তাই অভয়পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। ডাঙার পরিবেশ কীটনাশক ও রাসায়নিক সারমুক্ত হতে হবে। চারদিকের দূষিত জল কোনওভাবেই সংরক্ষিত পুকুরে পড়া চলবে না। ছোট মাছ বিপণনের জন্য নির্দিষ্ট বাজার গড়ে তুলতে হবে। এভাবেই বিভিন্ন প্রক্রিয়া মেনে চললে ছোটমাছ আবার ফিরিয়ে আনা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জুনপুট ফিশ টেকনোলজিক্যাল স্টেশনের সহ মৎস্য-অধিকর্তা নীলোৎপল কয়াল বলেন, অন্যান্য জায়গার মতো জুনপুটেও অভয়পুকুরের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা দপ্তরের নিয়ম-নির্দেশিকা মেনে কাজ করছি। আমরা আশাবাদী, দপ্তরের উদ্দেশ্য পূরণ হবে। আগামী দিনে হারিয়ে যাওয়া মাছ আগের মতোই বাঙালির পাতে উঠবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট মাছ হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারণ, তাদের আবাসস্থল ও প্রজননস্থল বিনষ্ট হয়ে যাওয়া। যথেচ্ছ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ কমে গিয়েছে। কেমন হয় অভয়পুকুর? এর উপযুক্ত পরিবেশই বা কেমন? দূষণহীন পুকুরে উপযুক্ত গাছপালা তৈরি করা হবে। সেখানে অন্য কোনও মাছ চাষ করা হবে না। শুধুমাত্র সংরক্ষণের জন্যই ব্যবহার করতে হবে। জলাশয়ের চারদিক ঘিরে রাখতে হবে। ২৫- ৩০শতাংশ জলজ গাছ থাকবে। শ্যাওলা, হাইড্রেলা, পানা, পাতিঘাস, কুলেখাড়া, হিঞ্চে, শুশনির মতো জলজ গাছের উপস্থিতি পুকুরে নিশ্চিত করতে হবে। মাছের খাবার হিসেবে ঘরোয়া খাদ্য যেমন, ভাত, কুঁড়ো দিতে হবে। কংক্রিটের ঘাটের বদলে খেজুর, তালের গুঁড়ি দিয়ে ঘাট তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ ৩০-৪০বছর আগে গ্রাম-বাংলার পুকুরঘাট যেভাবে ছিল, সেরকমই। যেখানে ছোট মাছ নির্ভয়ে থাকতে পারবে। জুনপুটেও অনেকটা সেই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষ। তবে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দেশীয় ছোট মাছ বর্ষাকালে বংশবিস্তারের সময় ডাঙায় উঠে আসে। তাই অভয়পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। ডাঙার পরিবেশ কীটনাশক ও রাসায়নিক সারমুক্ত হতে হবে। চারদিকের দূষিত জল কোনওভাবেই সংরক্ষিত পুকুরে পড়া চলবে না। ছোট মাছ বিপণনের জন্য নির্দিষ্ট বাজার গড়ে তুলতে হবে। এভাবেই বিভিন্ন প্রক্রিয়া মেনে চললে ছোটমাছ আবার ফিরিয়ে আনা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জুনপুট ফিশ টেকনোলজিক্যাল স্টেশনের সহ মৎস্য-অধিকর্তা নীলোৎপল কয়াল বলেন, অন্যান্য জায়গার মতো জুনপুটেও অভয়পুকুরের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা দপ্তরের নিয়ম-নির্দেশিকা মেনে কাজ করছি। আমরা আশাবাদী, দপ্তরের উদ্দেশ্য পূরণ হবে। আগামী দিনে হারিয়ে যাওয়া মাছ আগের মতোই বাঙালির পাতে উঠবে।



