নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি চলছে। আলোয় সেজে উঠছে সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর। হাওড়াতেও নিউ কালেক্টরেট, ওল্ড কালেক্টরেট সহ একাধিক সরকারি ভবন সন্ধ্যার পর তিরঙ্গা আলোয় ঝলমল করছে। এই আবহের তাল কাটল জেলা পরিষদের পুরনো ভবনে। চার্চ রোডে থাকা ভবনটির ছাদে রং চটা, জীর্ণ, প্রায় ছেঁড়া অবস্থায় উড়ছে জাতীয় পতাকা। এই ঘটনায় নজরদারির অভাব এবং জাতীয় পতাকার প্রতি অবহেলার অভিযোগ উঠছে।
স্বাধীনতা দিবস প্রাক্কালে রাজ্যের অন্যান্য শহরের মতো সেজে উঠেছে হাওড়ার প্রশাসনিক ভবনগুলিও। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে চার্চ রোডের ভবন থেকে জেলা পরিষদের মূল কাজকর্ম ইছাপুর মোড়ের কাছে সম্মিলনী ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখান থেকেই জেলা পরিষদের অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। চার্চ রোডের পুরনো ভবনে চলছে সংস্কারের কাজ। তবে অ্যাকাউন্ট সেকশন সহ বেশ কয়েকটি দপ্তর এখনও সেখানে রয়েছে। আধিকারিক ও কর্মীরাও কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা গিয়েছে, জাতীয় পতাকার বিভিন্ন অংশ থেকে সুতো বেরিয়ে এসেছে। গেরুয়া রং হয়ে গিয়েছে ফিকে। পতাকা দণ্ডে ব্যবহৃত দড়ির অবস্থা শোচনীয়। যে কোনো সময় তা ছিড়ে পড়ার আশঙ্কা। স্বাধীনতা দিবসের আগে যখন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ নিয়ে জোরকদমে প্রচার চলছে তখন গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি ভবনে থাকা জাতীয় পতাকা জীর্ণ দশাপ্রাপ্ত। জেলা পরিষদের এক আধিকারিকের দাবি, চলতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় পতাকাটি লাগানো হয়েছিল। খাদির কাপড় হওয়ায় সময়ের সঙ্গে রং চটে গিয়েছে। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি বলেন, ‘জাতীয় পতাকাটি পরিবর্তন করা নিয়ে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের আগেই পরিবর্তন করা হবে।’ হাওড়া ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরির সভাপতি সমীর বসু রায় চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় সম্মানের অপমান প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১ এবং ভারতীয় পতাকাবিধি, ২০০২ অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা ছেড়া, কুঁচকে ফেলা বা অসম্মান করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনবছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা বা দুইই হতে পারে। এছাড়া প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় নিয়ম করে জাতীয় পতাকা নামিয়ে না রাখলেও তা চূড়ান্ত অবমাননার সামিল।’ নিজস্ব চিত্র