নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোর আগে হাওড়া পুরসভার অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মুখে খুশির হাসি ফুটল। বকেয়া মেটানো ও দৈনিক মজুরি বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন তাঁরা। অবশেষে তাঁদের সেই দাবি মেটাল পুরসভা। অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের গত ৬ মাসের বকেয়া টাকা মেটানো হল। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, শহর জুড়ে নিকাশি পরিষ্কারের কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ইমার্জেন্সি কিট প্রদান করা হয়।
কোনও নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই নিকাশি নালায় নেমে কাজ করেন সাফাই কর্মীদের একাংশ। ম্যানহোলের ভিতরে ঢুকে কাজ করেন যাঁরা, তাঁদেরও খালি হাত-পায়ে নামতে হয় সেখানে। এদিন হাওড়া পুরসভার তরফে সে রকমই ২১৫ জন নিকাশি কর্মীকে সেফটি কিট দেওয়া হয়। এই কিট বক্সের মধ্যে রয়েছে, ফ্লুরোসেন্ট মেশানো বিশেষ পোশাক, গ্লাভ্স, হেলমেট, গামবুট ও মাস্ক। কোনও ধরনের বিষাক্ত গ্যাসের কারণে যাতে তাঁদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা না হয় কিংবা কেউ ডুবে গেলে যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, সেজন্য অত্যাধুনিক মাস্ক ও বডি স্যুট দেওয়া হয়েছে সাফাই কর্মীদের। শুধু কিটবক্স দেওয়াই নয়, প্রতিটি সামগ্রী নিকাশি কর্মীদের পরিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘এই সেফটি উপকরণ পরেই কাজে নামতে হবে সাফাই কর্মীদের। অনেকেই এগুলি ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তা সবার আগে। সবাই ব্যবহার করছে কি না, এই বিষয়টিও লক্ষ রাখা হবে।’
অন্যদিকে, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেটানো হয় এদিন। হাওড়া পুরসভার অধীনে অস্থায়ী সাফাইকর্মীর সংখ্যা প্রায় ১১০০ জন। বর্তমানে এই কর্মীরা দৈনিক ৩৯৮ টাকা করে মজুরি পান। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৩৭৯ টাকা হিসেবে পেতেন তাঁরা। গত ছ’মাসের বকেয়া টাকা মেটানো হল এদিন। এজন্য পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ৩১ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি পুরসভার অধীনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন ১৫০০ জন। ইতিপূর্বে ধাপে ধাপে তাঁদের বেতন দেড় হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পুজোর আগে ফের প্রত্যেকের ৫০০ টাকা করে বেতন বাড়াল পুরসভা। পুরসভা জানিয়েছে, এই বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।