Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় আবর্জনার পাহাড়, ৭০টি ডাম্পার কাজে লাগিয়েও নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি

ঈদের আগে হাওড়া শহরকে জঞ্জালমুক্ত করার সংকল্প নিয়েছিল পুরসভা

হাওড়ায় আবর্জনার পাহাড়, ৭০টি ডাম্পার কাজে লাগিয়েও নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ঈদের আগে হাওড়া শহরকে জঞ্জালমুক্ত করার সংকল্প নিয়েছিল পুরসভা। তবে লক্ষপূরণে ব্যর্থ হল। ৭০টি ডাম্পার একযোগে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করলেও সাফ হল না শহর। ফলে নাগরিকদের ক্ষোভ অব্যাহত। এরই মধ্যে কেউ বা কারা জমে থাকা জঞ্জালে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। ফলে মাত্রাছাড়া চেহারা নিচ্ছে দূষণ। সবমিলিয়ে নরকযন্ত্রণা হাওড়া শহরজুড়ে। যদিও পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘একবেলায় প্রায় আড়াইশো মেট্রিক টন করে আবর্জনা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সোমবারের মধ্যে হাওড়ার অধিকাংশ জায়গাতেই আবর্জনা সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

Advertisement

তবে অভিযোগ, সোমবার ঈদের দিন শহরের আবর্জনা চিত্রে খুব একটা বদল আসেনি। উত্তর হাওড়ার সাত ও আট নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু জায়গায় আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। গোলাবাড়ি থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে থাকা ভ্যাট উপচে পড়ছিল আবর্জনায়। অন্যদিকে পঞ্চাননতলা, রামরাজাতলাতেও একাধিক ভ্যাট ছিল আবর্জনায় ভরা। সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি চ্যাটার্জি হাট বাজার এলাকায়। সেখানে ভ্যাট থেকে আবর্জনা উপচে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে রাস্তায়। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল সবার। তাতেও নিস্তার নেই। রবিবার সন্ধ্যায় জগাছার আরুপাড়ায় আবর্জনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘জমে থাকা আবর্জনা তোলার আগে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এমনিতেই গোটা এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ। আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় ধোঁয়ায় মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মারাত্মক দূষণ।’
অতিরিক্ত ডাম্পার ব্যবহার করে সোমবারের মধ্যেই হাওড়ায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল পুরসভা। ব্যবহার হচ্ছে বড় আকারের ডাম্পার। কিন্তু সোমবারও একাধিক জায়গায় ভ্যাট উপচে পড়েছে জঞ্জালে। হাওড়া পুরসভা এজেন্সিগুলিকে দিন এবং রাতেও আবর্জনা পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিল। সুডা রবিবার ২০টি অতিরিক্ত ডাম্পার দিয়েছে। প্রায় ৭০টি ডাম্পার সাফাইয়ের কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
অন্যদিকে বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন এফ রোডের বস্তিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন। এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশ হাওড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। ভূমিধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকেই কাজে যোগ দিতে পারেননি। রাতে স্কুল বা কোচিং সেন্টারে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন। আর একাংশ দিনের বেলা কাজে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলি মেরামত করে খুলে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বাড়িতে আংশিক ফাটল ধরেছিল রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় তাঁরা ঘর সারাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ