কী কী মনে রাখলে ‘ফার্স্ট ডেট’ নির্বিঘ্নে কাটবে? জেনে নিন সহজ কিছু উপায়।
কী কী মনে রাখলে ‘ফার্স্ট ডেট’ নির্বিঘ্নে কাটবে? জেনে নিন সহজ কিছু উপায়।
• ‘দেখা হবে’। একটা ছোট্ট কথা। তবে তার অভিঘাত বিশাল। তাত্ত্বিকরা বলেন, কোন দেখা যে কোথায় গড়ায়, তা বুঝতে গোটা জীবন লেগে যায়! দেখা হওয়ার উত্তেজনা তাই ঘুঙুরের শব্দের মতো ঘুরে বেড়ায় হৃদয় জুড়ে। জীবন দেখার চশমা এক একজনের এক একরকম। তাই চাহিদা ও দর্শনও আলাদা। সেই ভিন্ন পছন্দে ভর করেই মানুষ সঙ্গী বেছে নেওয়ার পথে হাঁটেন। বিয়ে হোক বা লিভ ইন, সম্পর্ক শুরুর ধাপে সঙ্গীর সঙ্গে প্রথম দেখা করার চল এখন জলভাত। কিন্তু এই প্রথম চালেই ভুল করে বসেন কেউ কেউ। কিন্তু ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন’ নষ্ট হতে দেওয়া চলে না। প্রথম দেখা হওয়ার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
নিজেকে উপস্থাপন: কথায় বলে পহেলে নাকি দর্শনধারী! প্রথম দিন নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করছেন, ব্যক্তিত্বের কী ছাপ রাখছেন এটাই গুরুত্ব পায়। অন্যকে ইমপ্রেস করার ভাবনা এক্ষেত্রে ভুল পথে চালিত করবে, বরং নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকে মিশিয়ে দিন শালীন উপস্থাপনের সঙ্গে। অনেকেই প্রথম ডেটে গিয়ে একটু স্নায়ুর চাপে ভোগেন। সেটা ঢাকতে ভুলভাল কথা, অপ্রয়োজনীয় ইমেজ রক্ষা বেরিয়ে পড়ে। এতে হিতে বিপরীত হয়। বরং নিজের নার্ভকে প্রস্তুত রাখুন প্রথম ডেটের জন্য। অকারণে মেকি অভিনয়ে অন্যকে ইমপ্রেস করার প্রয়োজন নেই।
জায়গা নির্বাচন: আগে থেকে যতই কথা হোক, যতই সহজ হোক মেলামেশা, প্রথম দেখার দিন খুব একটা নিরিবিলি জায়গা বাছবেন না। ছিমছাম পারিবারিক কাফে বা রেস্তরাঁ ভালো বিকল্প। নইলে কোনও খোলামেলা জায়গায় দেখা করুন। সেখানে একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতেও কথা বলতে পারেন। প্রথম ডেট থেকেও নানা বিপদ ঘটে। তাই প্রথমেই অতিরিক্ত ভরসা বা বিশ্বাস জাহির করার দরকার নেই।
প্রথম দিনেই সব তথ্য নয়: কিছুটা কথাবার্তা, গল্পগাছা এগনোর পরেই হয়তো প্রথম দেখা করছেন। তবু প্রথম দিনই নিজের পারিবারিক, আর্থিক ও পেশার খুঁটিনাটি বিবরণ দেবেন না। কোনও ওটিপি, ব্যাঙ্কের ডিটেলস, ফোনের পাসওয়ার্ড এসব প্রথম দিনই নৈব নৈব চ!
জানিয়ে রাখুন: ডেটে যাওয়ার আগে কার সঙ্গে কোথায় যাচ্ছেন তা বাড়িতে জানান। অসুবিধা থাকলে বিশ্বস্ত ও কাছের কোনও মানুষকে জানিয়ে যান। যাতে আপনি অসুবিধায় পড়লে কেউ আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।
বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক রাখুন: মুখের কথার চেয়েও নজর দিন নানা জেশ্চার ও চোখ-মুখের ভাষার দিকে। নিজের বাড়ির ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা দেওয়ার মতোই কথা বলুন। সঙ্গীর প্রতি প্যাশন, ভদ্রতা, শিষ্টাচার যেন ব্যবহারে থাকে।
পোশাকে নজর: বাড়ির ড্রয়িং রুম, খোলামেলা আড্ডা, নিজের স্বাচ্ছন্দ্য মানেই এমন কিছু পরে যাবেন না, যেটা প্রথম ডেটের উপযোগী নয়। আপনি মানুষটা হয়তো ক্যাজুয়াল, পোশাক নিয়ে অত মাথা ঘামান না, তবু প্রথম ডেটে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জামা জুতো পরুন।
শ্বাসের খেয়াল: প্রথম ডেটে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন খাবেন না। ‘আমি তো এমনই’ এসব যুক্তি এই দিন বাদ দেওয়াই ভালো। কথা বলার সময় অনেকের শ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে। সমস্যা থাকলে তার যত্নও নিতে হবে। মাউথ ফ্রেশনার, এলাচ বা লবঙ্গ, মিন্ট চিউয়িং গাম এগুলো ভালো বিকল্প। ওভার কনফিডেন্স নয়: আত্মবিশ্বাস ভালো, তবে ওভার কনফিডেন্স একটি বিরক্তিকর ‘অসুখ’। সঙ্গী যদি আপনাকে চালিয়াত বা স্নব ভেবে বসেন, সেটা খুব একটা কাজের কথা হবে না। আপনার কথাবার্তা ও আচরণে যেন বোঝা যায় যে নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের পারদ চড়িয়ে ফেলবেন না। এতে ইমপ্রেশন নষ্ট হয়।
বিষয় নিয়ে সতর্কতা: অনেকেই বুঝতে পারেন না প্রথম দিনের দেখায় কী বলব! চলে আসে পুরনো প্রেম, কোনও পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অতিকথন। মনে রাখবেন, সব সম্পর্কেই সুখ-দুঃখ থাকে। সব শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্কই অতীত। সেই অতীত ভোলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তা নিয়ে পড়ে থাকলে বর্তমানের মানুষটি ভাবতেই পারেন আপনি পুরনো সম্পর্ক থেকে বেরতে পারেননি। তাই ‘আমি খুব ভালো, সম্পর্ক ভাঙার সব দায় প্রাক্তনের,’ এমন ধারণা তৈরি করবেন না। এতে উল্টো দিকের মানুষটি ভাবেন, তাঁর সঙ্গেও খারাপ দিন এলে আপনি এভাবেই তাঁকে দায়ী করবেন। একটি নতুন আগামীর প্রত্যাশা নিয়েই আপনি একজন মানুষের সঙ্গে ডেটে গিয়েছেন। কাজেই পুরনো প্রেম সম্পর্কে কথা বললেও তা যেন অতিকথন না হয়ে যায়। বরং নিজেদের আদর্শ, মত ও বিশ্বাস নিয়ে কথা বলুন। এমন কিছু বলবেন না যাতে সঙ্গী আহত হন বা আপনার সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রথম দিনই বেশি আগ্রহ দেখাবেন না। নিয়ন্ত্রণের তো প্রশ্নই নেই! নতুন আলাপ হওয়া একজনকে অনেকটা বোঝা যায় তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস, শখ, আগ্রহ, রাজনীতির আদর্শ দিয়ে। সম্পর্ক এগলে এই বিষয়গুলি দৈনন্দিনের যাপনে অনেকখানি জায়গা জুড়েই থাকবে। তাই সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক আদর্শ, শখ, আগ্রহ, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ধারণা সব নিয়েই আড্ডা দিতে পারেন। তবে সেটাই গোটা আড্ডা জুড়ে যেন না থাকে। নিজস্ব পরিসরে নিজেদের কথা বলুন। প্রথম ডেটে মিঠে আলাপের চেয়ে বড় কিছু হয় না।
বিল ভাগ: প্রথম ডেটের খাওয়াদাওয়ার বিল কে মেটাবেন? এটি অনেকের কাছেই একটা বড় সংকট। পুরুষ বলেই বিল তিনি দেবেন, এই ধারণা ক্লিশে। পুরুষতান্ত্রিকতার প্রদর্শন মাত্র। তাই বিল মেটান দু’জন মিলে। কিংবা যে কোনও একজন বিল মেটান। নয়তো মজার ছলেই বলুন, পরের দিন সঙ্গী বিল দেবেন আর আপনি শুধু টেস্টার! এতে আপনার যে ফের দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে এবং মানুষটিকে ভালো লেগেছে এটা বোঝানো যাবে ঘুরিয়ে। কাজেই বিল মেটানো নিয়ে অযথা জটিলতা নয়।
ঘ্যানঘ্যান নয়: প্রথম ডেটের পর হয়তো আপনার ভালো লেগেছে তাঁকে। কিন্তু তার মানেই তাঁকে উঠতে-বসতে মেসেজ বা ফোন করবেন না। অতিরিক্ত সবই কিন্তু বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। তাই তাঁর মতেরও গুরুত্ব দিন। ধীরেসুস্থে সম্পর্ক এগক।
আসলে প্রতিটি মানুষই স্বভাবে ও প্রকৃতিতে আলাদা। তাই এত কিছু মাথায় নিয়ে, এত বুঝে হয়তো সবসময় সব কাজ করা যায় না। তবু প্রথম ডেট জীবনে এতই গুরুতর যে বাড়তি একটু হোমওয়ার্ক প্রয়োজন হয়। নিজেকে কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝানো যায়, তা নিজেই সবচেয়ে ভালো জানেন। সঙ্গে যোগ করুন সঙ্গীর জন্য প্যাশন ও সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা। এতেই প্রথম দিনের দেখা আজীবনের পথ বেঁধে দেবে।
মনীষা মুখোপাধ্যায়