Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জিএসটি হ্রাসে ক্ষতিপূরণ কীভাবে? দিশাহীন মোদি সরকার, সেসের ভাগ চাইবে রাজ্যগুলি

জিএসটি হার কমে যাওয়ায় সবথেকে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে রাজ্যগুলি। কিন্তু রাজ্যগুলির সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? তার কোনও দিশা নেই জিএসটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে।

জিএসটি হ্রাসে ক্ষতিপূরণ কীভাবে? দিশাহীন মোদি সরকার, সেসের ভাগ চাইবে রাজ্যগুলি
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিএসটি হার কমে যাওয়ায় সবথেকে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে রাজ্যগুলি। কিন্তু রাজ্যগুলির সেই ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? তার কোনও দিশা নেই জিএসটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে। এমনকী অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণকে বুধবার রাতে এব্যপারে প্রশ্ন করা হলে  তিনি স্পষ্ট কোনও রোডম্যাপের কথা বলেননি। শুধু পশ্চিমবঙ্গেরই ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। রাজ্যগুলি কেন্দ্র থেকে যে ক্ষতিপূরণ সেস পায়, তা ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই সমাপ্ত হবে। কিন্তু তারপর কী হবে সে বিষয়েও কেন্দ্র বিশেষ কোনও আভাস দেয়নি এখনও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে সেসের ভাগ পাওয়ার দাবিতে সরব হবে রাজ্যগুলি।

Advertisement

জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে বারংবার ক্ষতিপূরণ সেস নিয়ে বিরোধী রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীরা প্রশ্ন করেন। কয়েকটি রাজ্য দাবি করে,  জিএসটি নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ভোটাভুটি হোক রাজ্যকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মেকানিজম নিয়ে। প্রশ্ন তোলা হয়, নীতিগতভাবে জিএসটি হ্রাস  নিয়ে কোনও রাজ্যের আপত্তি নেই একথা জানিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণ নিয়ে  সিদ্ধান্ত কেন হচ্ছে না? কিন্তু শেষপর্যন্ত এব্যাপারে কোনও ফরমুলাই জানাতে পারেনি কেন্দ্র। আর এই অবস্থায় এবার বিরোধী রাজ্যগুলি দাবি করতে চলেছে হয় কোনও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। অথবা সেস, সারচার্জকেও রাজ্যকে প্রদেয় করের ভাগাভাগির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।  প্রসঙ্গত, আয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যের সুযোগ অনেক কম। একমাত্র সংগৃহীত ট্যাক্সের ভাগ পায় রাজ্য। কিন্তু সেইসব ট্যাক্সের সিংহভাগ অংশ কেন্দ্র পাওয়ার পাশাপাশি  রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে প্রাপ্ত টাকা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, ব্যাঙ্ক থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড ইত্যাদি মিলিয়ে কেন্দ্রের আয় অনেক বেশি। কিন্তু জিএসটির ভাগ রাজ্যগুলি পেলেও সেস ও সারচার্জের কোনও ভাগ দেওয়া হয় না রাজ্যকে। এক্ষেত্রে রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ভাগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। কারণ রাজ্যবাসীর থেকেই নানাবিধ সেস ও সারচার্জ আদায় করা হয়। অথচ সেই রাজ্য সরকার ভাগ পায় না। রাজ্যের হাতে থাকা মদ এবং পেট্রপণ্যের উপর যে ট্যাক্স আদায় করা হয় সেটাও আসুক জিএসটির আওতায়। এই দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের অনেক দিনের। কিন্তু রাজ্যগুলির প্রবল আপত্তি। বস্তুত জিএসটি বাবদ যে আর্থিক লোকসান হতে চলেছে রাজ্যগুলির, তার কোনওরকম ক্ষতিপূরণ কেন্দ্র আর দেবে না বলেই মোটামুটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাই রাজ্যগুলির আশঙ্কা, তাদের কেন্দ্র নির্ভরতা যাতে বেড়ে যায়, সেটাই লক্ষ্য। সমস্যা আরও বাড়তে চলেছে আগামী আর্থিক বছর থেকে। কারণ, অক্টোবর মাসে ষোড়শ অর্থ কমিশন যে রিপোর্ট পেশ করবে, সেখানে আদৌ রাজ্যগুলিকে প্রদেয় ট্যাক্সের ভাগ ৪১ শতাংশ থেকে বাড়ানো হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয়। জানা যাচ্ছে, কেন্দ্র চায় না রাজ্যগুলির ভাগ বাড়ানো হোক। যদি অর্থ কমিশনের সুপারিশে ওই ট্যাক্সের ভাগ না বৃদ্ধি হয়, তাহলে রাজ্যগুলির ক্ষোভ যেমন বাড়বে, তেমনই বাড়বে অর্থসঙ্কট। 

সম্পর্কিত সংবাদ