নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তৃণমূল দুর্গাপুরের স্থানীয় বেকার যুবক যুবতীদের কাজ দেয়নি। বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই অষ্ট প্রহরের মতো প্রচার করতেন। সেটাকেই এবার ভোঁতা করে দিলেন দলেরই প্রাক্তন নেতা ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। স্থানীয়দের কাজের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন তিনি। দুর্গাপুরে ধর্নাও চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সেই মঞ্চ থেকেই ফেসবুক লাইভ করে লক্ষ্ণণকে তুলোধনা করেন বিজেপির যুবমোর্চার প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কাজের দাবিতে এখানকার বিধায়ক ক’টা আন্দোলন করেছেন?’ এরপরই বিধায়কের পুত্র ও কন্যার চাকরি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অভিযোগ, স্থানীয়দের কাজ দেওয়ার দাবিকে সমর্থনের বদলে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। ধ্রুবজ্যোতির এমন বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে দুর্গাপুরের রাজনীতি এখন সরগরম। সামনে ভোট। দুর্গাপুরে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ভোটের বড় ইস্যু। সেই ইস্যুতেই প্রধান বিরোধী দলের নেতার ভূমিকায় প্রশ্ন উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও লক্ষ্মণ বলেন, ‘ধ্রুবজ্যোতি এখন তৃণমূল কর্মী। তাঁদের শেখানো কথা বলছে। তাই ওঁর অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইনা।’ পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘বিজেপির মুখে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের কথা মানায় না। কেন্দ্র বাংলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কী করেছে? আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি।’
দুর্গাপুরে ওয়ারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে একটি বেসরকারি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। সেখানের ২৭ জন শ্রমিককে অন্যায় ভাবে ছাঁটাই করার প্রতিবাদে ৯০ দিন ধরে ধর্না কর্মসূচি চলছে। বিজেপির স্থানীয় প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে। সেখানে স্থানীয়দের কাজের দাবিতে কোনও কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি বিজেপিকে। সেই তাঁরাই এখন ভোটের আগে এলাকায় অভিযোগ করছেন স্থানীয়দের কাজ দেয়নি রাজ্যের শাসক দল। তারই প্রতিবাদে ফেসবুক লাইভে লক্ষ্ণকে একহাত নেন ধ্রবজ্যোতি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আপনি বলছেন স্থানীয়দের কাজ হয়নি। অথচ, ৯২ লক্ষ টাকা দিয়ে কীভাবে ছেলের ইসিএলে চাকরিটা হল? কেন্দ্রীয় সংস্থায় কীভাবে আপনার মেয়ে কাজ পেল। যেখানে তিনি শুধু হাজিরা খাতায় সই করে চলে আসেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিমেন্ট কারখানায় ৫ লক্ষ টাকা নিতে এসেছিলেন। সেবার নিতে দিইনি। এবার আট লক্ষ টাকা নিয়ে চলে গেলেন!’ বিজেপি বিধায়কের পাশাপাশি শাসক দলের কিছু নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। তিনি বলেন, ‘ভাই, ভাতিজা সম্পর্ক পাতিয়ে শাসক দলের এক নেতা বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লোক এনে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। দুর্গাপুরের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।’ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থান না হওয়া ও এলাকার দূষণ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। একদিকে, কারখানাগুলিতে স্থানীয়দের কাজ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, দূষণ বিধি না মেনে কারখানার চালানোর জেরে দূষণ বাড়ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে দীর্ঘদিন কোন আন্দোলন না করে ভোটের মুখে অভিযোগ তুলে সরব হতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই চাওয়ার পাত্রে ছাই ঢেলে দিলেন ধ্রুবজ্যোতি। তৃণমূল জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, ‘প্রশ্ন যখন উঠেছে তখন বিধায়কের উচিত জনগনের সামনে সন্তানদের চাকরির পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা।’