Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাঠানখালি পঞ্চায়েত প্রধানের ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড চুক্তিভিত্তিক কর্মীর নাগালে কীভাবে? তদন্তে লালবাজার

: অনুপ্রবেশকারীদের পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ডে ধৃত গৌতম সর্দারের কাছেই থাকত পাঠানখালির পঞ্চায়েত প্রধানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড।

পাঠানখালি পঞ্চায়েত প্রধানের ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড চুক্তিভিত্তিক কর্মীর নাগালে কীভাবে? তদন্তে লালবাজার
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনুপ্রবেশকারীদের পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট কাণ্ডে ধৃত গৌতম সর্দারের কাছেই থাকত পাঠানখালির পঞ্চায়েত প্রধানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড। সেটি তার কাছে গেল কীভাবে? প্রশ্ন তুলেছেন সিকিউরিটি কন্ট্রোলের তদন্তকারীরা। এর সুযোগ নিয়েই অনায়াসে ভুয়ো নাম আপলোড করে বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। তার সঙ্গে পাঠানখালি পঞ্চায়েতের আর কারা জড়িত? জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার একটি টিম ওই পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে তথ্যাদি সংগ্রহ করেন।

Advertisement

গৌতমকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাঠানখালি পঞ্চায়েত অফিসে দৈনিক জন্ম-মৃত্যুর তালিকা পাঠানো হয়। ওই তথ্যই তার কাছে জমা পড়ত। আর সেগুলি আপলোড করার দায়িত্ব ছিল তার। সংশ্লিষ্ট পোর্টালে প্রবেশের সুবিধা পেতেই প্রধানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তার কাছে ছিল। 
কিন্তু এটি কীভাবে তার কাছে এল? জেরায় অভিযুক্তের দাবি, পঞ্চায়েত থেকেই তাকে এটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কে দিল? গৌতমের কাছে এর সদুত্তর মেলেনি। জেরায় সে জানিয়েছে, মৃতদের যে তালিকা জমা পড়ত সেখান থেকেই সে নাম সংগ্রহ করত। ওই নামের সামান্য অদলবদল ঘটাত সে। এরপর দে ওই নাম বার্থ সার্টিফিকেটের পোর্টালে তুলত। তাদের জন্মস্থান হিসেবে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই নাম দেওয়া হতো। বলা বাহুল্য, বাস্তবে সেখানে সেই ব্যক্তির জন্মই হয়নি। এভাবেই বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নামে। দৈনিক পঞ্চাশেরও বেশি ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করেছে অভিযুক্ত। 
পুলিসের কাছে গৌতমের দাবি, চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার পর এলাকারই এক দালাল তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই দালালই একটি বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করার প্রথম বরাত দেয়। তাতে রাজি হয়ে গৌতম সেটি বানিয়েও দেয়। বিনিময়ে মেলে হাজার দুয়েক টাকা! এমন লাভজনক হাতেখড়ি হতেই লোভ ধরে যায় গৌতমের। সে ‘পরীক্ষায় সসম্মানেই উত্তীর্ণ’ হয়েছে বুঝে পরে ওই দালাল তাকে আরও সার্টিফিকেট তৈরির কাজ দেয়। এমন ‘খ্যাতি’ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকার অন্য দালালরাও। এইভাবে গৌতম পাকাপাকিভাবে ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটের কারবারি হয়ে ওঠে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ