নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, চোপড়া: মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই প্রতিদিন। স্কুলের চাকরিটাই ছিল ভরসা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়ে চরম বিপাকে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি হাইস্কুলের শিক্ষক সুশান্ত দত্ত। ২০২২ সালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তারপর থেকে একদিকে চিকিৎসা চলছিল। অদম্য লড়াই, জেদ এবং অধ্যবসায়ে ভর করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্কুলে পড়ানো। এখন তাঁর ভাবনা কীভাবে চিকিৎসা হবে? চিকিৎসা ছাড়া বাঁচবেন কী করে? স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে সংসারই বা চলবে কীভাবে?
ইসলামপুরে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন সুশান্ত। এসএসসি পাশ করার পর ২০১৬ সালে তাঁর নাম ওঠে প্যানেলে। ২০১৭ সালে স্কুল শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেই চাকরি হারাতে হবে স্বপ্নেও ভাবেননি। আচমকাই যেন মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। যেন ক্ষীণ হয়ে আসছে বেঁচে থাকার আশা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে তিনি।
ইতিহাসের শিক্ষক সুশান্ত বলেন, অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে, পরীক্ষা দিয়ে স্কুল শিক্ষকের চাকরি জুটেছিল। কিন্তু এখন কী করব জানি না। ২০২২ সাল থেকে মারণ রোগ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। মুম্বইয়ে ক্যান্সারে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। প্রতি চারমাস অন্তর মুম্বই যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। প্রত্যেক দফায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
সজল নয়নে সুশান্তর আক্ষেপ, তিন বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, ভেবে পাচ্ছি না।
মাঝিয়ালি হাইস্কুলের সহকর্মী সঞ্জীব নাথ বলেন, সুশান্ত ২০১৭ সালে কোচবিহারে একটি স্কুলে চাকরিতে যোগ দেন। পরে মিউচুয়াল ট্রান্সফারে মাঝিয়ালি হাইস্কুলে আসেন। খুব ভালো কাজ করছিলেন তিনি। সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা চলছিল। স্কুল থেকে ও সহকর্মী হিসেবে আমরা সাহায্য করছিলাম। তার মাঝে
চাকরি নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন। শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে চাকরিহারা। মানবিকতার দিক থেকে সুশান্তকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। -নিজস্ব চিত্র