Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়ার কারণেই হোটেলে খুন গৃহবধূ, খুনি এখনও অধরা, খোঁজ নেই শিশুর

এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন হটেলে মৃত মহিলার প্রকৃত পরিচয় অবশেষে পাঁচদিন পর সামনে এল। বুধবার কাটিহার ও কুমেদপুর থেকে মৃত মহিলার বাপের ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আসেন।

পরকীয়ার কারণেই হোটেলে খুন গৃহবধূ, খুনি এখনও অধরা, খোঁজ নেই শিশুর
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন হটেলে মৃত মহিলার প্রকৃত পরিচয় অবশেষে পাঁচদিন পর সামনে এল। বুধবার কাটিহার ও কুমেদপুর থেকে মৃত মহিলার বাপের ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আসেন। তাঁরা জানান মৃতার নাম সাভি কুমারী। বাপেরবাড়ি কাটিহারে। ২০২০ সালে কুমেদপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়। হোটেলের রেজিস্ট্রারে নাম ভাঁড়িয়ে পুজা দাস পরিচয়ে সঙ্গীর সঙ্গে থাকছিলেন। তাঁর স্বামী সাতমাস ধরে রাজস্থানে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সবমিলিয়ে পুলিশের তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়ার জেরেই খুন হন ওই মহিলা। তবে খুনের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নাকি, কথা কাটাকাটির জেরে ঘটনাটি ঘটেছিল তা পরিষ্কার হবে অভিযুক্ত সঙ্গীর গ্রেফতারের পরেই। যদিও ওই ব্যক্তির হদিশ এখনও পায়নি এনজেপি থানার পুলিশ। 

Advertisement

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি আমরা। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। 
উল্লেখ্য, ২৪ অক্টোবর এনজেপির হোটেল থেকে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে এক পুরুষ সঙ্গী ও একটি ছোট মেয়ে এসেছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে হোটেল থেকে অভিযুক্ত সঙ্গীর একটি নথির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অনুমান করে যে ওই মহিলা যার সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন সে তাঁর স্বামী নয়। তবে মৃত মহিলার কোনও পরিচয়পত্র না পাওয়ায় তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তদন্তকারীদের। অবশেষে মোবাইলের সূত্র ধরে কুমেদপুরের একটি ঠিকানা পান তদন্তকারীরা। এরপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে মৃতার নাম সাভি কুমারী। বাপেরবাড়ি বিহারের কাটিহারে। ২০২০ সালে তাঁর সঙ্গে কুমেদপুরের এক যুবকের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান হয়। যদিও কর্মসূত্রে স্বামী বারবার ভিনরাজ্যে থাকায় ওই মহিলা কখনও বাপেরবাড়িতে যাবেন বলে যাওয়ার নাম করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হতেন। কিন্তু সেখানে খোঁজ নিলে তাঁর সন্ধান পাওয়া যেত না। আবার কখনও শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছি বলে বাপেরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতেন। 
এবারেও গত ২১ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার নাম করে বাপেরবাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ অক্টোবর তিনি মেয়ে ও সঙ্গীকে নিয়ে এনজেপির হোটেলে ওঠেন। যদিও এরপর বাপের বা শ্বশুরবাড়ির কেউই তাঁর খোঁজ নেননি। মঙ্গলবার রাতে কুমেদপুর থানা থেকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে মৃতার ভাই কানাইয়া কুমার ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় বিভূতি সরকার এসে সরকারি নিয়ম মেনে দেহ চিহ্নিত করেন। পরে সমস্ত সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ